নতুন গভর্নর যোগ দেওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মাথায় প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে খেলাপি ঋণে কী সুবিধা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করার পুরো ক্ষমতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকমালিকেরাই এখন ঠিক করবেন, তাঁরা ঋণখেলাপিদের কী সুবিধা দেবেন। আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নিয়মিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগত, যা স্বয়ং গভর্নর অনুমোদন করতেন।

বাংলাদেশে যাঁরা বড় বড় ঋণখেলাপি, তাঁদের বেশির ভাগই ব্যাংকের মালিক। ফলে ঋণখেলাপিদের হাতেই ন্যস্ত করা হলো ঋণখেলাপিদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের বিষয়টি। এটা সেই বিখ্যাত বাংলা প্রবাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়, ‘শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়া’। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতি আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনবে না; বরং ব্যাংকিং খাতকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর এমন সময়ে এই ঘোষণা দিলেন, যখন বাংলাদেশ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। করোনার ক্ষতিতে ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছিলেন সাবেক গভর্নর ফজলে কবির। ব্যবসায়ীরা ঋণ শোধ না করেও দুই বছর ব্যাংকের খাতায় ভালো গ্রাহক ছিলেন। নতুন গভর্নর সেই অনিয়মেরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, যাঁরা ভালো গ্রাহক এবং ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তাঁদের এ সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বড় ঋণখেলাপিদের বড় সুবিধা দিয়ে কাগজে-কলমে তালিকার বাইরে রাখার চেষ্টা কোনো সুফল দেবে না। বরং এতে ভালো গ্রাহকেরা নিরুৎসাহিত হবেন।

আগের গভর্নরের আমলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে একের পর এক কেলেঙ্কারি ঘটলেও, তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সাবেক কর্মকর্তার সেসব কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নতুন গভর্নরের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও খেলাপি ঋণ আদায়ে শক্ত পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিপত্র উল্টো বার্তাই দিল।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন