ফলে দোকানে বসেই সারা দেশের যেকোনো ঠিকানায় অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংযুক্ত ও সংশোধন করতেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৭ সালে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বিভাগের এক সাবেক প্রোগ্রামারের কাছ থেকে পাওয়া লিংক ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে তিনি এ কাজ করে আসছিলেন।

প্রায় ছয় হাজার মানুষের জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংযুক্ত করেন ওই দোকানি। তাঁর মতো আছেন আরও কয়েকজন। চট্টগ্রাম নগরে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন নেওয়ার ঘটনার তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসে।

 জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, সরকারি সার্ভার ডাউন থাকে। সে কারণে দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। দালালেরা অর্থের বিনিময়ে অল্প সময়ের মধ্যে কাজটি করে দেন।

এ নিয়ে অক্টোবর মাসে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস পালন উপলক্ষে ক্ষোভও প্রকাশ করেন ঢাকার দুই মেয়র। তঁাদের বক্তব্যেই উঠে আসে, দিনের বেলা জন্মনিবন্ধনের সার্ভার ডাউন থাকে, কখনো বন্ধও থাকে। ওই সময় লোকজন নিবন্ধন করতে পারেন না। আবার রাতে সার্ভার ঠিক থাকে। তখন ‘নিশাচর দালাল’দের হাতে জন্মনিবন্ধনের কাজটি দিয়ে দেন।

পাঁচ বছর ধরে একটি সার্ভার যখন একই পাসওয়ার্ডে চলতে থাকে, তাতেই বোঝা যায় সেখানে প্রযুক্তিগত সুরক্ষা কতটা নাজুক। তাতে সার্ভার ডাউন হয়ে থাকাই তো স্বাভাবিক। ফলে দালাল চক্রও অবৈধভাবে সেই সার্ভারে ঢুকে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এভাবে নিরাপত্তাহীন করে রাখা কেন? এত অভিযোগ, অসন্তোষ, ক্ষোভ—এরপরও কেন জন্মনিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে এই অবহেলা? সরকারি নীতিনির্ধারকদের কাছে বলব, আমরা এর শেষ চাই। অসাধু কর্মকর্তাসহ গোটা দালাল চক্রটিকেই অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।