সংঘাত বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিক

সম্পাদকীয়

গ্রাম মানেই শুধু ছায়াসুনিবিড় আর শান্তির পরশ নয়। গ্রামে গ্রামে হানাহানি ও সংঘর্ষে সেখানে অশান্তির বসবাসও আছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা বিরোধের কারণে সেই হানাহানি লেগেই থাকে বছরের পর বছর।

সেখান থেকে ঘটে খুনোখুনিও। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় নাগডেমরা ইউনিয়নে দুই গ্রামের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত ৩০ বার সংঘর্ষ হয়েছে। একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। অসংখ্য বাড়িঘর ও লুটপাটের ঘটনাও আছে। সম্প্রতি আরেক দফায় সংঘর্ষে জড়ায় গ্রাম দুটির বাসিন্দারা। ফলে সেখানকার জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, প্রভাব বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমান ও হারুন-অর রশীদের মধ্যে বিরোধ ছিল আগে থেকেই। এর মধ্যে ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান নৌকার প্রার্থী হারুন-অর রশীদকে ভোটের লড়াইয়ে হারান স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান। ওই নির্বাচন সময় থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ধারাবাহিক বিরতিতে এখনো চলছে।

সোনাতলা ও পুঁটিপাড়া গ্রামের দুই পক্ষের এক সংঘর্ষে একজন কৃষকও নিহত হন। তখন দুই পক্ষের চাপে পড়ে নিহতের পরিবার একবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডের জন্য এক পক্ষকে দায়ী করে, আবার আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে অপর পক্ষকে দায়ী করে।

এমন পরিস্থিতিতে স্বজন হারানোর বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, পরিবারটি এলাকা ছেড়েই চলে গেছে। যদিও সেই হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত আসামি হিসেবে হাফিজুর রহমান একবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটেন। এখন জামিনে আছেন তিনি।

গত বছরের ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা, হামলা, লুটপাট ও সংঘর্ষ বাড়তেই থাকে। কখনো এক পক্ষ অপর পক্ষের সব লোককে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করে। গোটা গ্রাম দখল নিয়ে ঘরবাড়ি, ফসলের খেত লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। আবার কখনো আরেক পক্ষ এসে হামলা চালিয়ে গ্রাম পুনরুদ্ধারে নামে। এর ফলে দুই গ্রামের অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন। আর সবচেয়ে বেশি তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকেন শিশু, বয়স্ক ও নারীরা।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা সমঝোতার নানা উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু তাদের কারোরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই। এরপরও আমরা বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।’

আমরা মনে করি, দুই গ্রামের মধ্যে এই বিরোধ মেটাতে স্থানীয় প্রশাসনেরও এগিয়ে আসা উচিত। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দুই গ্রামের মধ্যে এবার শান্তি নেমে আসুক, সেটিই আমাদের কামনা।