ঢাকা শহরের অলিগলি ঘুরলে যে কারও মানতে কষ্ট হবে এটি একটি দেশের রাজধানী। প্রধান সড়কসহ অলিগলির অনেক রাস্তার করুণ দশার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বর্ষা এলেই এ চিত্র আরও প্রকট হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই এমন পরিস্থিতি। এমনকি যানজট কমাতে নির্মিত হওয়া বিকল্প সড়কেরও অবস্থা করুণ। এসব রাস্তার দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হলে শেষ হওয়ার নাম নেই। এমন দশার অবসান হোক।
গুলশান অ্যাভিনিউয়ে যানজট কমাতে ২০১৮ সালে গুলশান লেক ড্রাইভ রোড নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই সড়ক এখন নিজেই চলাচলের অনুপযোগী। উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে এর কোনো সংস্কার হয়নি। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দ। অথচ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, রাস্তাটি গত বছরের নভেম্বরেই রাজউক থেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বর্ষা শেষে শুরু হওয়ার কথা। অথচ বর্ষার আগেই সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব ছিল।
শুধু গুলশান লেক ড্রাইভ রোডই নয়, উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুরের রূপনগর, শাহ আলীবাগ, সেনপাড়া পর্বতা, কাফরুল, পূর্ব বাইশটেকি, বাড্ডার গোপীপাড়া, সাঁতারকুল, মহাখালী দক্ষিণপাড়া, মধুবাগ, মালিবাগ চৌধুরীপাড়াসহ অসংখ্য এলাকার অলিগলির রাস্তা ভাঙাচোরা। কোথাও ঢালাই ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে আছে, কোথাও গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিত্রও ভিন্ন নয়। বেশির ভাগ অলিগলির সড়ক ভাঙাচোরা, এমনকি কিছু মূল সড়কও চলাচলের অনুপযোগী। খিলগাঁওয়ের বাসাবো-মাদারটেক সড়কটি আট মাস ধরে বেহাল। সায়েদাবাদ থেকে খিলগাঁও উড়ালসড়কের মুখ হয়ে নন্দীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরা, যেখানে বড় গর্তগুলোতে ইট বিছিয়ে কাজ সারানো হচ্ছে। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা এমদাদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘খিলগাঁও উড়ালসড়কের গোড়া থেকে নন্দীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল থমকে দিয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলেও কর্তৃপক্ষ সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে উদাসীন।’ জানা গেছে, এই সড়কের জন্য বরাদ্দ থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্যান্য কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া বর্ষার মধ্যেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি। ড্রেন বসানোর কাজ চলছে রূপনগর, জনতা হাউজিং, শেওড়াপাড়া, সেনপাড়া পর্বতা, বাইশটেকি ও মহাখালী দক্ষিণপাড়ায়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ আছে বিপুল অর্থও। এরপরও বেহাল সড়কের কারণে নগরবাসীকে মাসের পর মাস দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেন সংস্কারকাজগুলো সময়মতো হচ্ছে না? আমরা আশা করি, দুই সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।