দেওয়ানগঞ্জে কর্তৃপক্ষের কেন এই উদাসীনতা

সম্পাদকীয়

সাধারণত বর্ষাকালে নদ-নদীর ভাঙন আমাদের দেশে নিয়মিত দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে যখন নদীর পানি শান্ত থাকে, তখন ভাঙনের তাণ্ডবে একটি জনপদের একমাত্র পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া কেবল বিস্ময়কর নয়, এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়টিও প্রকাশ পায়। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় খোলাবাড়ী-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের ৫০০ মিটার অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে আটটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একটি জনপদের জন্য এটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক ঘটনা।

এক মাস ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে এলাকাবাসীর যে অভিযোগ, তা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক, বাজার, মসজিদ এবং জেলার একমাত্র নৌ থানা যখন হুমকির মুখে ছিল, তখন পাউবো কেন ‘প্রকল্প তৈরি’ আর ‘বরাদ্দের’ অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে রইল, সেই প্রশ্ন ওঠা সংগত। নদী যখন ধীরে ধীরে সড়কের দিকে এগিয়ে আসছিল, তখনই যদি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে আজ ২০ হাজার মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

সড়কটি বিলীন হওয়ার ফলে খোলাবাড়ী, বাহাদুরাবাদসহ আটটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা এখন স্থবির। পণ্য পরিবহন বন্ধ হওয়ায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অটোরিকশাচালকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং নৌ থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মানুষ এখন ধানখেত দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকা বড় হওয়ায় ‘অল্প কিছু কাজ করে লাভ নেই।’ এখন বড় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আসতে অপেক্ষা করা ছাড়া কি তাদের কিছুই করার ছিল না? একটি জনপদের ‘লাইফলাইন’ বা প্রধান সড়কটি যখন বিলীন হওয়ার মুখে থাকে, তখন আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া কি বাধ্যতামূলক ছিল না? এই উদাসীনতা প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে জনদুর্ভোগের চেয়ে দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যমুনা নদী যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে আরও নতুন এলাকা ও স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল। আমরা মনে করি, কেবল বরাদ্দ পাওয়ার অপেক্ষায় বসে না থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত অর্থ ছাড় করা। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত বিকল্প চলাচলের পথ নির্মাণ করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।