এতে স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হন। বিএনপির নেতারা বলেছিলেন, আধা কিলোমিটার দূরে যুবদল কার্যালয়ে গিয়ে তাঁরা মিছিল শেষ করবেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলের অনুমতি না দিয়ে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে।

প্রত্যুত্তরে বিএনপির কর্মীরাও ইটপাটকেল ছোড়েন। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায় এবং গুলিতে বিএনপির কর্মী আবদুর রহিম মাতব্বর মারা যান। এ ছাড়া অনেকে আহত হয়েছেন, যঁাদের কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আবদুর রহিমের মৃত্যুর পুরো দায় বিএনপির ওপর চাপাতে চাইছে। পুলিশ সুপার বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের প্রতি অস্ত্র তাক করেছিলেন, তাই আত্মরক্ষার জন্য তারা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এর মাধ্যমে তিনি বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর গুলির কথা স্বীকার করলেন। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, তদন্তের আগে বলা যাবে না কার গুলিতে আবদুর রহিম মারা গেছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে দলের নেতারা রাস্তায়ই নামতে পারছেন না, তাঁরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল বা সমাবেশ করবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যেহেতু পুলিশ এখানে একটি পক্ষ, তাদের তদন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক।

সংঘর্ষে নিহত মো. আবদুর রহিম মাতব্বর ছিলেন পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। পরিবারে তাঁর মা–বাবা, স্ত্রী ও চার সন্তান আছে। এই সন্তানদের মধ্যে বড়টি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোটটির বয়স মাত্র দুই বছর। এ অবস্থায় আবদুর রহিমের পরিবার চলবে কীভাবে? আমরা সরকারের কাছে আবদুর রহমানের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানাই; যাতে তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়।

কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি অবাধে কর্মসূচি পালন করতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু ভোলাসহ অনেক স্থানেই পুলিশ বিভাগের অতি উৎসাহী সদস্যরা সংঘর্ষের পথ বেছে নিয়েছেন। ধরে আনতে বললে তঁারা বেঁধে আনছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের এ হঠকারিতা চলমান রাজনৈতিক বিরোধকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে; যা দেশ-জনগণ এমনকি সরকারের জন্যও কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন