অথচ ব্রিটিশ আমলে যাত্রা শুরু করা এই গ্রন্থাগারের সঙ্গে জামালপুর শহরের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম একসময় অবিচ্ছিন্ন ছিল। শহরের বকুলতলা এলাকায় ২৯ শতাংশ জমিতে একতলা ভবনে গড়ে ওঠা গ্রন্থাগারটি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠকদের আনাগোনায় মুখর থাকত। কিন্তু শহরের অন্য সব চালু থাকলেও গ্রন্থাগারটি এখন বন্ধ।

গ্রন্থাগারটি সরকারি না হলেও এর দেখভালে প্রধান ভূমিকা রেখে এসেছে জেলা প্রশাসন। তাদের উদ্যোগেই গ্রন্থাগারিক ও পিয়নদের বেতন পৌরসভা বা অন্য উৎস থেকে জোগাড় করা হতো। কিন্তু জেলা প্রশাসন অর্থ জোগাড়ের বিষয়ে গা ছাড়া অবস্থায় যাওয়ায় গ্রন্থাগারটি ‘বেঘোরে মরেছে’।

মনে রাখা দরকার, একটি জেলার পুরোনো একটি গ্রন্থাগার বন্ধ হলে সেখানকার হাজার হাজার বই হারিয়ে যায়। তার সঙ্গে হারিয়ে যায় জ্ঞানচর্চার ধারা। সেখানে স্থূল বিনোদন ভর করে। তাৎক্ষণিকভাবে এর ঋণাত্মক প্রভাব হয়তো টের পাওয়া যায় না, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এর মাশুল দিতে হয়।

স্বীকার্য যে সশরীর গ্রন্থাগারে হাজির হয়ে মলাটবন্দী বই খুলে বই পড়ার অভ্যাস পাঠকদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাঠক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়নি। অনলাইনে মানুষ বই পড়ছে।

জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরির যে ৩৪ হাজার বই নষ্ট হতে চলেছে, তার মধ্যে এমন অনেক বই থাকার কথা, যা দুর্লভ এবং নষ্ট হয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। সে কারণে সরকারি উদ্যোগে এসব বই পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ করে তা অনলাইন লাইব্রেরিতে সংযুক্ত করা যেতে পারে। সর্বোপরি, বন্ধ হওয়া গ্রন্থাগারটিকেও বাঁচিয়ে তোলা দরকার।