এ আপত্তির পর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আবেদনটি নাকচ করে দেওয়া। সেটি না করে তারা সংরক্ষিত বনভূমিতে বাফুফের সেন্টার করার অনুমতি দিয়েছে। তাদের এ সিদ্ধান্ত বন আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী। এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে; যাদের মধ্যে এএলআরডি, টিআইবি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বেলা, ব্লাস্ট, বাপা, নিজেরা করি, গ্রিন কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।

তারা বলেছে, বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত বন বরাদ্দেও আইন মানা হয়নি। বন আইনের ২৭ ধারায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল সংরক্ষণ থেকে অবমুক্ত (ডি-রিজার্ভ) করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হলেও বনের ক্ষতি হয়, এমন কাজে বরাদ্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলায় মোট বনভূমির পরিমাণ ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৬ একর। এর মধ্যে অবৈধ দখলে যাওয়া বনভূমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৯৯০ একর, যা মোট বনভূমির ১৭ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বরাবর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ১৪ হাজার ৩৭২ একর বনভূমি। এখন পর্যন্ত বন বিভাগ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়কে ১০ হাজার ৪৬০ একর বনভূমি হস্তান্তর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কক্সবাজারের ৭৬ হাজার ৯৮৬ একর বা প্রায় ৩০ শতাংশ বনভূমিই কারও না কারও দখলে রয়েছে।

গত বছর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দখলদারদের কাছ থেকে বনভূমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করে। ওই বৈঠকে কোথায় কী পরিমাণ বনভূমি দখল হয়ে গেছে, তারও হিসাব দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় সেই দখল করা বনভূমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সংরক্ষিত বনভূমি বরাদ্দ দিয়েছে বাফুফের টেকনিক্যাল সেন্টারের নামে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরাও দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংস করে বাফুফের সেন্টার বা অন্য কোনো স্থাপনা করা যাবে না। অবিলম্বে এ বরাদ্দ বাতিল করে সংরক্ষিত বনভূমি সুরক্ষায় টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন