প্রথম আলোর সরেজমিন প্রতিবেদন জানাচ্ছে, উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭০ ঘরের ১১০টি ঘরই ফাঁকা পড়ে আছে। বাগালী ইউনিয়নে ৬০টি ঘরের মধ্যে ৪৫টি ঘরের মানুষ অন্য স্থানে চলে গেছেন। কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২০টি ঘরের ১০০টি ঘরেই কেউ বসবাস করেন না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নদীর তীরে নির্মাণ করা আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সমস্যা একই ধরনের। কোনোটিতেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ–সংযোগ, যোগাযোগের রাস্তা, চিকিৎসাব্যবস্থা—কিছুই নেই। নাজুক বাঁধের কারণে নদীর জোয়ারের পানিতে অধিকাংশ ঘর থেকে মাটি সরে গেছে। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি করে এলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এমন মানবেতর জীবন যাপন করতে কে সেসব ঘরে থাকতে চাইবে?

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ভুক্তভোগী বাংলাদেশের এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু সরকারের যথাযথ মনোযোগের অভাবে কয়রার বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে হচ্ছে। সেখানে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো অনেকের জন্য বড় আশীর্বাদ হতে পারত।

কিন্তু অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে সেটিও সম্ভব হলো না। দিন শেষে তাদের উদ্বাস্তু হওয়ারই দশা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের কোটি কোটি টাকাও অপচয় হলো।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মমিনুর রহমান বলেন, তিনি উপজেলায় নতুন যোগদান করেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে বসবাসরত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শিগগির ঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করতে তিনি তদারক শুরু করবেন।

আমরা তাঁর কথায় আস্থা রাখতে চাই। আমরা আশা করব, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোকে বসবাসের উপযোগী করে তুলবেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও আমরা কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চাই। কয়রার প্রাকৃতিক দুর্যোগপীড়িত মানুষগুলোর পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিন।