হাসপাতালে মানুষ আসে শারীরিক ভোগান্তি থেকে মুক্তির আশায়, কিন্তু সেই হাসপাতালে আসার পথটাই রোগীদের জন্য আরও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে যাওয়ার একমাত্র সড়কটির দুরবস্থা এভাবেই চিত্রিত হয়েছে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন অসুস্থ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সামনে মাত্র ৪০০ মিটার সড়কের এই দুর্দশা স্থানীয় অবকাঠামোগত সমস্যার চেয়ে অনেক বড় সংকট তুলে ধরে। এটি কেবল যান চলাচলের অসুবিধা নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি জেলার একমাত্র সদর হাসপাতালের সামনে এমন সড়ক বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
হাসপাতালটি শুধু খাগড়াছড়ি শহরের নয়, জেলার ছয়টি উপজেলা ও আশপাশের দুর্গম এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শত শত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী এই পথ ব্যবহার করেন। অথচ আট বছর ধরে সংস্কার না হওয়া সড়কটি এখন গর্ত, কাদাপানি ও ভাঙা পিচে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, যা রোগী পরিবহনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
এই সড়কে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ধীরগতি বা আটকে পড়া শুধু দুর্ভোগ নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা জীবন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভোগান্তি আরও গভীর। হাসপাতালমুখী সড়ক ভালো না হলে স্বাস্থ্যসেবার মান যত উন্নতই হোক, তার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছায় না। সড়ক এখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, বরাদ্দ ঘোষণার পর দরপত্র, ঠিকাদার নিয়োগ এবং কাজ শুরুর মধ্যবর্তী সময় দীর্ঘ হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়তেই থাকে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করা জরুরি। একই সঙ্গে কাজের মান নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক আবার ভেঙে না পড়ে।
এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া দরকার। হাসপাতালসংলগ্ন সড়কগুলোকে সাধারণ সড়ক হিসেবে না দেখে জরুরি অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার হলে এমন অবহেলা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আমরা আশা করি, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সামনের সড়কটির সংস্কার দ্রুত শুরু ও শেষ হবে।