প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও খেয়াঘাট মিলিয়ে সারা দেশে সাড়ে চার শতাধিক ঘাট রয়েছে। আইন অনুযায়ী, সেগুলোর উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঢাকা, শরীয়তপুর, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনা ও চট্টগ্রামের নানা জায়গায় ১৮টি ঘাটের দখল নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কোথাও সিটি করপোরেশন, কোথাও উপজেলা প্রশাসন আবার কোথাও উপজেলা পরিষদের বিবাদ চলছে। সবার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকসহ মন্ত্রণালয় পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েও এ সমস্যার সুরাহা হয়নি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরিঘাট নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের বিরোধের বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসে। এতে ঘাটটিতে এতটাই নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে গত পাঁচ বছরে সেখানে অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রুটটিতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এখন জেলা পরিষদের ভাষ্য, উচ্চ আদালতের আদেশে এ ঘাট তারা পরিচালনা করছে।

এর পেছনে ৩০ কোটি টাকাও বিনিয়োগ করেছে তারা। এখন বিষয়টি তাদের জন্য ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’। কথা হচ্ছে যে দায়িত্ব তাদের নয়, সেটি কেন তাদের পরিচালনা করতে হবে, সেখানে কেন কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে? ইজারার টাকার প্রতি কেন তাদের এত মনোযোগ? আবার কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগ করেছে বিআইডব্লিউটিএ, কিন্তু ইজারা দিচ্ছে জেলা পরিষদ।

আইন অনুযায়ী, বিআইডব্লিউটিএ ছাড়া অন্য কারও ঘাট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সুযোগ নেই। সেখানে কীভাবে অন্য দপ্তরগুলো আদালতের নির্দেশ নিয়ে আসে, তা আমাদের বুঝে আসে না। বিআইডব্লিউটিএর প্রতিবেদন বলছে, ঘাট পরিচালনায় দ্বৈত প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে মূলত ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাই। নৌপথে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ঘাট নিয়ে এ বিরোধের দ্রুত অবসান হোক। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ জরুরি বলে আমরা মনে করি।