পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি দূর করুন

সম্পাদকীয়

পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য যে জন্মনিবন্ধন সনদ থাকা আবশ্যক, পাসপোর্ট কার্যালয় তা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার থেকে যাচাই করে নেয়। নিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে এ কার্যালয়ের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তযোগাযোগের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আছে। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তা মানছে না।

তারা এমন তথ্যভান্ডার তৈরি করেছে, যার সঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের কোনো সংযোগ নেই। এতে ডিএসসিসি কিংবা রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের কোনো সমস্যা না হলেও পাসপোর্টপ্রত্যাশীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা রাজস্বের অর্থ তাঁদের নিজস্ব তহবিলে জমা রাখার দাবিতে গত বছর প্রায় তিন মাস জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। গত বছরের ৪ অক্টোবর নিজস্ব সিস্টেম দিয়ে তাঁরা নিবন্ধনের কাজ শুরু করেন।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, ১৮ বছরের কম বয়সী যাদের পাসপোর্ট করতে জন্মনিবন্ধন সনদ লাগে বা যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের ডিএসসিসির জন্মসনদ দিয়ে পাসপোর্ট করা যাচ্ছে না। ১০ মাসের বেশি সময় ধরে ডিএসসিসির জন্মসনদ নিয়ে এ সমস্যা চলছে। ঠিক কবে সমস্যার সমাধান হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার এক বাসিন্দা তাঁর সন্তানের পাসপোর্ট করাতে না পেরে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে নতুন করে জন্মসনদ নিয়েছেন।

কেরানীগঞ্জে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপপরিচালক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সিস্টেমের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের ইন্টিগ্রেশন (একীভূত) আছে, ডিএসসিসির সঙ্গে নেই। ফলে ডিএসসিসির জন্মসনদ নিয়ে যাঁরা পাসপোর্ট করতে আসছেন, তাঁদের সনদ নম্বর সিস্টেমে আসে না। এ কারণে তাঁদের আবেদন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ডিএসসিসি ছাড়া সারা দেশের যেকোনো জায়গা থেকে করা জন্মনিবন্ধন নম্বর আমাদের সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। ডিএসসিসির নিজস্ব সিস্টেমে নিবন্ধনের বিষয়টিকে আইনবিধির লঙ্ঘন উল্লেখ করে গত বছরের ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেল। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রতিকারমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই।

বরং ডিএসসিসি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গত বছরের ১৮ অক্টোবর ২২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে একটি চিঠি দেয়। তারা জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে ডিএসসিসির সিস্টেমে ক্লিক করে কিউআর কোড ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ার সফটওয়্যারে কিউআর কোড স্ক্যান করার কোনো ব্যবস্থা নেই ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের পরিচালক মো. সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কেন্দ্রীয় সিস্টেমে জন্মনিবন্ধন নম্বর না থাকলে পাসপোর্ট কার্যালয়ের সফটওয়্যারে তা আসবে না।

ডিএসসিসির নিজস্ব সার্ভার আইনসম্মত নয় উল্লেখ করে তথ্যভান্ডার হস্তান্তরে সম্মত হয়নি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। সরকারের দুটি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিরোধের কারণে পাসপোর্টপ্রত্যাশীরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যেখানে রেজিস্ট্রার জেনারেলের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত, সেখানে ডিএসসিসির আপত্তি কেন? এখানে গোঁয়ার্তুমির কোনো সুযোগ নেই।