এর মধ্যে আছে ভোট বাতিলে ইসির ক্ষমতা ও ভোট বন্ধে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো, প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখালে বা কেন্দ্রে যেতে বাধা দিলে শাস্তির বিধান, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে শাস্তি, দলের সর্বস্তরের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলায় কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতা বাড়ানো, প্রার্থীদের আয়কর সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, ভোট গণনার বিবরণী প্রার্থী ও তাঁর এজেন্টদের দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত খেলাপি বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি) পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, রাজনৈতিক দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র ৩০ দিনের মধ্যে ইসিতে জমা দেওয়ার বিধানের কথাও বলা হয়েছে।

এসব সংশোধনী কার্যকর হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি নির্বাচনের অনিয়ম ও অনাচার বন্ধেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে যঁারা ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করেন, তঁাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

অনেক সময় সাংবাদিকেরা খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে দলীয় মাস্তানদের কাছে নিগৃহীত ও হয়রানির শিকার হন। ফৌজদারি আদালতে যা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী আইনে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়া জরুরি বলে মনে করি। ২০২১ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলে যে এক-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়েছিল, যা কেউ পূরণ করতে পারেনি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে দলের নেতৃত্বে যিনি বা যঁারাই থাকুন না কেন, তাঁরা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি।

প্রার্থীদের আয়কর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত খেলাপি বিল পরিশোধের বিধান থাকা আবশ্যক। যাঁরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, আর্থিক লেনদেনসহ তঁাদের সব কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সময়ক্ষেপণ বা গড়িমসি কেন? এর মাধ্যমে তারা নির্বাচন কমিশন তথা দেশবাসীকে কী বার্তা দিতে চায়? আরপিও সংশোধনের বিষয়টি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয় অনুমোদন পাওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদে উত্থাপন করতে হবে। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ ও জোটসঙ্গীদের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। তাদের সম্মতি ছাড়া কোনো বিল পাস হবে না।

‘স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়’ বলে নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা যে মন্তব্য করেছেন, তা–ও  গ্রহণযোগ্য নয়। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে তাদের ‘স্বাধীনতা ছিনিয়েই’ নিতে হবে।