প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫ হাজার, যার মধ্যে এমপিওভুক্ত হলো ২৯ হাজার ১৬৪টি। নন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে স্বঘোষিত শিক্ষানুরাগীদের তেমন আগ্রহ নেই। তাঁদের উৎসাহ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে।

কেবল ইউনাইটেড কলেজ নয়, দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদে সরকারদলীয় ব্যক্তিরা আছেন। একসময় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা যত ইচ্ছা তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারতেন। ২০০৯ সালে এটি চারটিতে সীমিত করে দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই বিধান বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হচ্ছেন। আত্মীয়তা কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনায় যখন কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য বা সভাপতি হন, তখন তার দায়বদ্ধতা থাকে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতি নয়, যে ব্যক্তির প্রভাবে তিনি পদ পেয়েছেন, সেই ব্যক্তির প্রতি।

একসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব নিয়োগ, পদোন্নতি দেওয়া এবং উন্নয়নকাজ করানোর দায়িত্ব ছিল পরিচালনা কমিটির। এখন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ করা হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে। স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এখনো পরিচালনা কমিটির হাতে আছে। এসব পদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘুষ–বাণিজ্য হয়ে থাকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জরিপমতে, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়।

যোগ্য শিক্ষকেরা কখনো ঘুষ দিয়ে চাকরি নেবেন না। যাঁদের যোগ্যতার ঘাটতি আছে, তাঁরা ঘুষ দিয়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি নেবেন। স্বাভাবিকভাবে এসব শিক্ষক দ্রুত সেই অর্থ তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করবেন। এসব কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে একধরনের আঁতাত তৈরি হয় এবং একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য শিক্ষার মান উন্নয়ন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানোর কল্যাণ নয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে ন্যূনতম স্নাতক পাস হওয়ার বিধান চালু করলেও মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে যে ব্যক্তি

বিদ্যালয় বা কলেজের গণ্ডি পার হননি, তিনিও এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ অলংকৃত করে থাকেন। সব সম্ভবের বাংলাদেশে সবই সম্ভব।

অতএব, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আমরা যদি শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঠেকাতে চাই, তাহলে রাজনৈতিক বিবেচনায় কমিটি গঠন বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষানুরাগীদের দিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন