প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত বছর শেষের দিকে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ট্রাক নামে পরিচিত চারটি গাড়ির উদ্বোধন করেছিলেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

একই প্রকল্পের আওতায় কেনা হয় পোর্টেবল বা ভ্রাম্যমাণ অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টও। গাড়িগুলো পরিচালনার জন্য করপোরেশনের প্রশিক্ষিত জনবলও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ফেলে রাখায় একসময় নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন প্রকৌশলীরা।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ হচ্ছে, সিটি করপোরেশন নগরের বেহাল রাস্তাগুলো নামকাওয়াস্তে সংস্কার করে। সেটি করাও হয় দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়—স্থায়ী ও নিজস্ব প্ল্যান্ট থেকে রসদ এনে, রোলারসহ আরও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে। এতে সময়ক্ষেপণ হয় বলে সংস্কারকাজের গুণমানও খারাপ হয়ে যায়। ফলে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রাস্তা সংস্কারেই আগ্রহী করপোরেশনের কতিপয় কর্তা। কারণ, এ কাজে নানা ধাপে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আছে এবং সেটি প্রতিবারই। এখন দ্রুত সড়ক সংস্কারের নামে যন্ত্র কেনাকাটা করে সেগুলোও কাজে লাগানো হচ্ছে না।

দেশের অনেক খাতেই প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে। আবার উন্নয়ন করতে গিয়ে পরিকল্পনাহীনতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মকে একপ্রকার সংস্কৃতিও বানিয়ে ফেলা হয়েছে। যার কারণে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, ‘আমাদের উন্নয়ন–দর্শনে ভুল আছে।’

সহজে রাস্তা সংস্কারের নামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এই যন্ত্রপাতি কেনা ও সেগুলো কাজে না লাগানোর মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমরা চাই, পুরোনো প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অধিক গুরুত্ব দেবে সিটি করপোরেশন, সেই সঙ্গে সঠিক সময়ে যথাযথভাবে সড়ক সংস্কারেও মনোযোগী হবে।