শিক্ষক-সংকটের কারণে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এখন আর স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী নন। দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক অবসরে যান। এক বছর আগে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান দুজন শিক্ষক।

এখন একা গোটা স্কুলের ঘানি টানছেন প্রতিমা রানী রায়। একাধারে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন, ক্লাস নেওয়া ও কর্মচারীর ভূমিকাও তিনিই পালন করেন। সকালে স্কুলের দরজা খুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ক্লাস শেষে দরজা বন্ধ করা—একাই সবকিছু করছেন প্রতিমা রানী।

শিক্ষকের অভাবে ক্লাস না হওয়ায় স্কুলে আসাটাকে সময় নষ্ট মনে করে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জানাচ্ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর আমাদের প্রচেষ্টা অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে শিক্ষকসংকটের কারণে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, একে তো প্রত্যন্ত এলাকা, সেই সঙ্গে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার কারণে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা এখানে থাকতে চান না। কাউকে বদলি করা হলে সেটিকে শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডিমলার প্রাথমিক শিক্ষার একজন কর্মকর্তাও জানালেন, ইতিমধ্যে দুজনকে এ বিদ্যালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরাও নানা লবিং করে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পর অন্য স্কুলের একজন শিক্ষককে সেখানে অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিস্তাপারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। শিক্ষার হার হ্রাস পেয়ে আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়বে এলাকাটি।

বিদ্যালয়টিতে অতি দ্রুত স্থায়ীভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। সেখানকার সুধীজন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিদ্যালয়টির গতিশীল করতে স্থানীয় প্রশাসনের জোরালো ভূমিকাও আমরা দেখতে চাই।