পৌর কর্তৃপক্ষের ‘মন’ পরিচ্ছন্ন হোক 

সম্পাদকীয়

মাদারীপুর পৌরসভার ডাস্টবিন ও ময়লা ফেলার ছোট ছোট নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিন প্রায় ৩৫ টন বর্জ্য জমা হয়। শহরের অলিগলির ‘কোণে কোণে জমে ওঠে পচে ওঠে আমের খোসা ও আঁটি, কাঁঠালের ভূঁতি, মাছের কানকা, মরা বিড়ালের ছানা, ছাইপাঁশ আরও কত–কী যে!’ সেই সব ময়লা–আবর্জনা কুড়িয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোনো ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশনে ফেলার কথা। কিন্তু তাদের ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন নেই। তার জের জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের এলাকার বাসিন্দাদের টানতে হচ্ছে দিনের পর দিন। কারণ, সেখানকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘেঁষে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পাঁচ শতাধিক পরিবারকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ সহ্য করে বসবাস করতে হচ্ছে। পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদেরও দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। 

 লোকালয়ের মধ্যে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে এক বছর আগে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও লাভ হয়নি। এলাকার লোকজন একবার ক্ষুব্ধ হয়ে পৌরসভার ময়লার গাড়ি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। তাতেও পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধার মাত্রা উপলব্ধি করতে পারছে না। 

প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, ২৪ ফুট চওড়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের প্রায় ২ ফুট চলে গেছে ময়লার দখলে। মহাসড়কের ২০০ মিটার অংশ দিয়ে নাকে–মুখে হাত চেপে বা নিশ্বাস বন্ধ করে পথচারীরা চলাচল করছেন। মস্তফাপুর এলাকায় লক্ষণীয়ভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এতে জীবাণু ছড়িয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক বাড়িতে থাকা ভাড়াটেরা ভাড়া বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। 

প্রশ্ন হলো, মাদারীপুর পৌরসভার মতো একটি শহর কর্তৃপক্ষের কেন একটি ডাম্পিং স্টেশন নেই? শহর কর্তৃপক্ষের অন্যতম কাজই যেখানে পৌর ও আশপাশের এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা; সেখানে তারাই যদি ময়লা–আবর্জনার দুর্গন্ধে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তাহলে কী বলার থাকে? আধুনিক সভ্য সমাজে একটি বাড়ি করলে সেই বাড়িতে আর কিছু থাক না থাক, একটি শৌচাগার থাকতেই হয়। ঠিক সেভাবে বর্জ্য ভাগাড় বা ডাম্পিং স্টেশন একটি শহরের ‘শৌচাগার’। কেউ এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় না নিলে তা তার পরিচ্ছন্ন চেতনার অভাবকে প্রকাশ করে। সেই বিবেচনায় হলেও মাদারীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পরিচ্ছন্নতার চেতনা জাগ্রত হোক।