টাকা দিয়ে কৃষিপণ্য হিমাগারে রাখার পর সেটি অনেক সময় পচে যায়। এত কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল হিমাগারে রাখার পরও যদি পচে যায়, তার চেয়ে কষ্টদায়ক কৃষকের জন্য আর কী হতে পারে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, পচে যাওয়া আলুর ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি আলু সংরক্ষণে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিও জানান তাঁরা। আলু সংরক্ষণের জন্য জেলাটিতে ১৫টি হিমাগার রয়েছে।

হিমাগারমালিকেরা চলতি মৌসুমে ৫০ কেজির আলুর বস্তা সংরক্ষণের জন্য ২৬০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন বলে জানান বিক্ষোভকারীরা। অথচ গত মৌসুমে ৭০ কেজি ওজনের বস্তার ভাড়া ছিল ২৫০ টাকা। হিমাগারমালিকদের সংগঠনদের দাবি, বিদ্যুতের দাম ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে তারা। আলু পচে যাওয়ার বিষয়টিও এড়িয়ে গেছে তারা। দেখা যাচ্ছে, এ বছর মানিকগঞ্জে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে ১৭৫ টাকা এবং মুন্সিগঞ্জে ২১০ থেকে ২২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তাহলে ঠাকুরগাঁওয়ের আলুচাষিরা কেন বাড়তি অর্থ দেবেন?

মৌসুমের শুরুতে হিমাগারের ভাড়া কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখেনি জেলা প্রশাসন। এখন বেশি দরে আলু সংরক্ষণ করেও জেলার বেশ কয়েকটি হিমাগারে কৃষকের আলু পচে গেছে। অধিকাংশ হিমাগারে ঠিকমতো জেনারেটর না চালানো ও অদক্ষ কর্মী দিয়ে মেশিন পরিচালনার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এতে কৃষক কোনো কোনো ৫০ কেজির বস্তায় ১০ কেজির মতো আলু পাচ্ছেন। অথচ আলু পচে গেলেও কৃষককে বস্তার ভাড়া ২৬০ টাকাই দিতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগগুলো যাচাই করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমাদের প্রশ্ন, আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেন রাখা হলো না? আর আলু পচে যাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও আমরা দেখতে চাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন