করোনাকালের শিক্ষা: ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার কী করছে

করোনা মহামারিতে শিক্ষার বিস্তর ক্ষতি হয়েছে বলে শিক্ষাবিদেরা অনেক দিন ধরে বলে আসছিলেন। কিন্তু শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে সবকিছু ঠিক আছে বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন। এ কারণে শিক্ষার মানের যেমন আরও অবনতি হয়েছে, শিক্ষার্থীদেরও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘মহামারি-উত্তর শিক্ষা: স্কুলশিক্ষার পুনরুদ্ধার ও আগামীর অভিযাত্রা: এডুকেশন ওয়াচ ২০২২’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, অষ্টম শ্রেণির ২৮ দশমিক ৯০ এবং নবম শ্রেণির ২৬ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আর ডি গ্রেড (৩৩ থেকে ৩৯ শতাংশ নম্বর) অর্জন করেছে অষ্টম শ্রেণিতে ৩৬ দশমিক ১ এবং নবম শ্রেণিতে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে অষ্টম ও নবম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক অবস্থাও তুলে ধরা হয়। অষ্টম শ্রেণির ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায়, ৬৫ শতাংশ ইংরেজিতে এবং ৬৬ শতাংশ গণিতে ৩৩ ভাগ নম্বর পেয়ে পাস করেছে। 

উল্লেখ্য, গণসাক্ষরতা অভিযান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিখন দক্ষতা মূল্যায়ন করেনি; বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ৯০ মিনিটের পরীক্ষা নিয়েছে। ৮টি বিভাগের ৮ জেলা, ২১টি উপজেলা (৭ জেলার ৩টি করে উপজেলা), ২টি সিটি করপোরেশন এ গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

এর পাশাপাশি গবেষণায় যে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, তা হলো অষ্টম ও নবম শ্রেণির ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। অভিভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং নবম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রাথমিকে ৭৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের পাঠ ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাণিজ্যিক গাইড বই অনুসরণ করছে। ২০২২ সালের প্রথম ৯ মাসে প্রাথমিক পর্যায়ে এ খাতে গড়ে ৬৬৯ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ হাজার ৬৫ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন।

এসব তথ্য-উপাত্ত আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার নাজুক অবস্থাই তুলে ধরে। শিক্ষার মানের অবনমন চলে আসছিল বহু বছর ধরে। শিক্ষা বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে পাসের হার বাড়ানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও পঞ্চম শ্রেণির ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা নিয়েও নানা রকম কসরত করেছেন। বেশি বেশি পরীক্ষায় কোচিং ব্যবসা ও গাইড বই বিক্রি বাড়ালেও শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হয় না। ন্যূনতম শিখন ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে কৃতকার্য বলে সনদ দেওয়া হলে তার যেমন ক্ষতি হয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় ধস নামে। 

শিক্ষার মানোন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো উপযুক্ত শিক্ষকদের দিয়ে শিক্ষাবর্ষপঞ্জি অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাবিদেরা করোনার ক্ষতি কমাতেও সে ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

শিক্ষারক্ষতিপুষিয়েনিতেশিক্ষাবিভাগেরকর্তাব্যক্তিদেরউচিতকোথায়কার (শিক্ষকওশিক্ষার্থী) কীদুর্বলতাআছে, সেটিচিহ্নিতকরেপ্রতিকারেরব্যবস্থাকরা।শিক্ষার্থীদেরকোচিংওপ্রাইভেটশিক্ষকনির্ভরতাদূরকরতেনাপারলেশিক্ষারমানোন্নয়নঅলীকস্বপ্নইথেকেযাবে।