মহানগর দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজের দুটি পদই শূন্য থাকায় ফৌজদারি মামলার আসামিদের আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরাও পড়েন ভোগান্তিতে। কারণ, জামিনের দরখাস্ত করতে পারছিলেন না তাঁরা। এখন মহানগর দায়রা জজ নিয়োগ পাওয়ায় এমন পরিস্থিতির কিছুটা হয়তো উন্নতি হবে। কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত বিচারকের পদটি এখনো শূন্য হয়ে রয়েছে।

সারা দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট লেগে থাকা বিচারব্যবস্থার জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট মহানগরে কত মামলা চলমান, সে তথ্য প্রথম আলোর কাছে জানাতে আগ্রহী নন আদালত কর্তৃপক্ষ। তবে বিচারকের পদ শূন্য থাকায় সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মাঝখানে দুটি পদই শূন্য থাকায় বিচার কার্যক্রম বলতে গেলে একেবারে স্তিমিত হয়ে যায়। আদালতের এসব পদ পূরণ হয় আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। মহানগর আদালতটিতে দ্রুত অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দিয়ে সেখানকার বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সেখানে আরও কিছু সমস্যার কথা আমরা জানতে পারছি। আদালতপাড়ায় কোর্ট ফির সংকট রয়েছে। অবৈধ নোটারি স্ট্যাম্পও বিক্রি হচ্ছে অহরহ। সেখানে অর্ধশতাধিক নানা দোকানে জাল কোর্ট ফি বিক্রি হচ্ছে, যাতে প্রতারিত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। সম্প্রতি সেখানে স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালালে জাল কোর্ট ফি বিক্রিকারীদের উৎপাত কমেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অভিযান চালানোর কিছুদিন পর পুরোনো দৃশ্যপটই ফিরে আসে।

এ জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। দশ ও পাঁচতলাবিশিষ্ট দুটি আদালত ভবনের প্রতি তলাতে একাধিক টয়লেট আছে কিন্তু অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এতে নারী ও বয়স্ক বিচারপ্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকার কারণে সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করব, এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন