আইন অনুযায়ী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কিংবা ফাহমিদা খাতুনের মধ্যে যেকোনো একজনের প্লট ছেড়ে দেওয়ার কথা। তাঁরা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে রাজউকের তা বাতিল করার কথা। কিন্তু তাঁরা সেটি না করে বিধি সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচলে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী যে প্লটটি পেয়েছেন, তা ১০ কাঠার। যদিও প্রথমে তঁার নামে বরাদ্দ হয়েছিল সাড়ে সাত কাঠার প্লট। এর আগে তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক) উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরে তিন কাঠার একটি প্লট পান। সংসদ সদস্যের প্লটের ইজারা দলিল এখনো হয়নি। তবে তাঁর স্ত্রীর প্লটের দলিল সম্পন্ন হয়েছে। রাজউকের প্লট বরাদ্দের আবেদনপত্রে হলফনামা দিতে হয় যে তঁার পরিবারের কোনো সদস্যের ঢাকায় সরকারের বরাদ্দ করা কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই।

কিন্তু উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তাঁর হলফনামায় স্ত্রীর প্লট থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। তিনি প্লট পেয়েছেন বিধিমালার ১৩/এ ধারা অনুসারে। ধারাটি ‘সংরক্ষিত কোটা’ হিসেবে পরিচিত। ওই ধারা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে অবদান, জনসেবা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কারণে সরকার কোনো ব্যক্তিকে প্লট দিতে পারে। তবে ওই ধারায় কোথাও বলা হয়নি স্বামী ও স্ত্রী দুজনই প্লট পাবেন।

এ পরিস্থিতিতে রাজউক স্বামী-স্ত্রীর নামে পৃথক দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রেখে বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া তার গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী ফাহিমা খাতুন এ সুবিধা পেলে অন্য প্রভাবশালীদের পরিবার একাধিক প্লট পাওয়ার দাবিদার হবে।

প্রশ্ন হলো, ব্যক্তিবিশেষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজউক এ কাজ করতে পারে কি না। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিশ্চয়ই রাজউকের বিধিমালা সংশোধিত হতে পারে।

এবং তা হতে হবে বৃহত্তর স্বার্থে, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষকে সুবিধা পাইয়ে দিতে নয়। আমরা আশা করব, রাজউক তার সিদ্ধান্ত বদল করে বিধিমালা সংশোধনের এ উদ্যোগ প্রত্যাহার করে নেবে। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন কোনোভাবেই এ অনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন না করে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন