শুধু খেলার মাঠে জলাবদ্ধতা নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। সেখানকার শৌচাগারটিও জরাজীর্ণ। গত বৃহস্পতিবার এসব সমস্যার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস বা সাড়া না পেয়ে রোববার ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।

আমরা জানতে পারছি, বছরে কয়েক মাস মাঠটি জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এ সময় মাঠে কোনো খেলাধুলা তো হয়ই না, এমনকি বিদ্যালয়ের সমাবেশ, জাতীয় সংগীত ও শপথবাক্যও পাঠ হয় না। কোনো জাতীয় দিবস পালনেও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। স্কুলের সীমানার মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন কাঁচামালের ও গরুর হাট বসে, এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন দশা খুবই দুঃখজনক।

যদিও গোটা দেশেই অসংখ্য স্কুল-কলেজ খেলার মাঠের অভাবে ভুগছে। যেমন শুধু সিরাজগঞ্জের পাঁচ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই বলে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি।

মূলত প্রতিষ্ঠানের পাশের সড়ক উঁচু হওয়ার কারণে মাঠটিতে এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাকা নর্দমা নির্মাণ করে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদনও জানায় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

এখন মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে এমনটিই শুধু বলতে পারলেন ইউএনও। কখন সেই প্রকল্প পাস হবে, কখন বরাদ্দ আসবে, কখন খেলার মাঠটি জলাবদ্ধতামুক্ত হবে—তা এখন সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে কি এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন