দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা জরুরি

সম্পাদকীয়

পদ্মা কেবল একটি নদীর নাম নয়। পদ্মা এই ভূখণ্ডের জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। প্রথম আলোর খবরে এসেছে, ফরিদপুরের সদরপুর অংশে পদ্মা নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে যেভাবে আড়াআড়িভাবে মাছ শিকার চলছে, এতে নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে জাল বসানোয় মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বড় মাছের পাশাপাশি রেণু পোনা ও মা মাছ ধরা পড়ছে, যা ভবিষ্যতের মাছসম্পদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। একটি নদীতে মাছের প্রজনন চক্র নষ্ট হলে তার প্রভাব শুধু ওই নদীতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আশপাশের জলাশয়, খাদ্যশৃঙ্খল এবং জেলেদের জীবনযাত্রাও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং নদী ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার প্রতিফলন।

এই ধরনের মাছ শিকার যে বেআইনি, তা আইনেই স্পষ্টভাবে বলা আছে। ১৯৫০ সালের মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ। এত পুরোনো একটি আইন আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ নদীর প্রকৃতি ও মাছের জীববিজ্ঞান বদলায়নি, বদলেছে আইন প্রয়োগের মানসিকতা। আইনের যদি প্রয়োগ না থাকে, তবে তার মূল্য থাকে না।

এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই বেড়া টিকে থাকা প্রমাণ করে যে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কেউ বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করছেন, কেউ আবার জেনেও নীরব। স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ না থাকায় উদ্যোগ নেওয়া হয় না। কিন্তু নদীর মাঝখানে দৃশ্যমানভাবে বাঁশের বেড়া বসানো থাকলে সেটি আলাদা করে অভিযোগের অপেক্ষা রাখে না।

নদী রক্ষা কেবল একটি দপ্তরের দায়িত্ব নয়। এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় ছাড়া এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রভাবশালী পরিচয়ে যাঁরা নদী ব্যবহার করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আইনের প্রয়োগে কোনো শৈথিল্য থাকা উচিত নয়।

পদ্মা রক্ষার প্রশ্নে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। যদি এই বেড়া অপসারণে দেরি হয়, আগামী দিনে হয়তো নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত পদ্মা নদীতে দেওয়া অবৈধ বাঁশের বেড়া অপসারণ করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের প্রজনন রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।