ল্যাবে এসে দেখি, ল্যাবের ইনচার্জ অনুপস্থিত। তাঁর অবর্তমানে কোনো লোক নেই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই।’ সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়াশিল্প নগরের বর্জ্যে ধলেশ্বরী নদীর পানিসহ পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ধলেশ্বরীর সঙ্গে বংশী, বুড়িগঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি নদীর সংযোগ রয়েছে। এ কারণে ওই সব নদীও মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি সাভারের শিল্পনগরীর বর্জ্যে নদী ও আশপাশের এলাকা দূষণে উদ্বেগ প্রকাশ করে এটি বন্ধ করার সুপারিশ করেছিল। কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর মন্তব্য ছিল, ‘চামড়াশিল্প যেভাবে আছে, তা চলতে দেওয়া যাবে না। আমাদের উদ্বেগের বিষয় সলিড ওয়েস্ট।

সেখানে এটা ট্রিটমেন্টের কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই।’ নদী কমিশনের চেয়ারম্যান চামড়াশিল্প বন্ধ করার কথা না বললেও নদীদূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। সে ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও নদী কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে খুব ফারাক নেই। তাঁদের দুজনের কথার মর্মার্থ হলো শিল্প বা উন্নয়নের জন্য নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না।

প্রশ্ন হলো বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সংসদীয় কমিটি কিংবা নদী কমিশন নদী রক্ষায় সুপারিশ করতে পারে মাত্র। এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে বর্জ্য শোধনের সমস্যাটি শুরু থেকেই ছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল বিসিকের। তারা যে চীনা কোম্পানিকে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল, তারা সেটা করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার জবাব কী।

নারায়ণগঞ্জের ডাইং ও ওয়াশিং শিল্পকারখানার নির্গত তরল বর্জ্য থেকে শীতলক্ষ্যাকে রক্ষা করতে পরিবেশ অধিদপ্তর দুটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেয় ২০১৫ সালে। ইতিমধ্যে সাত বছর পার হয়েছে। নদীদূষণ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। অথচ কর্তৃপক্ষ মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করছে।

বুড়িগঙ্গা রক্ষার কথা বলে ধলেশ্বরীর পাড়ে চামড়াশিল্প স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখন ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা দুটিই দূষিত হচ্ছে। চামড়াশিল্প নগরীতে তৈরি পুরো বর্জ্যই শোধন করতে হবে; যাতে নদী দূষিত না হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে শিল্পকারখানার প্রয়োজন আছে, স্বীকার করি। কিন্তু তা করতে হবে আইন মেনে, নদী ও পরিবেশকে ধ্বংস করে নয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন