এর ওপর ভিত্তি করে এ মাসের ১৬ তারিখে আইনের আরেকটি খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু নতুন খসড়াটিও অংশীজনদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। প্রস্তাবিত আইনটিতে এখনো এমন অনেক বিষয় রয়ে গেছে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এ আইন পাস হলে তা যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা অংশীজনদের।

পৃথিবীর অনেক দেশেই উপাত্ত সুরক্ষা নিয়ে আইন রয়েছে এবং আইনের উদ্দেশ্য হলো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু আইসিটি বিভাগের খসড়া আইনটিতে সুরক্ষার বদলে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ জানান, সবার মতামত নিয়েই আইনটি করা হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময়ও সরকারের পক্ষ থেকে একই রকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে ঘটেছে উল্টো।

সরকারের প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একটি প্রবিধানমালা এবং ওটিটি (ওভার দ্য টপ) নীতিমালার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একধরনের প্রতিফলন লক্ষ করা গেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা কয়েক মাস ধরে তুলনামূলকভাবে কম। এর কারণ হলো, এ আইন নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় এ আশঙ্কা অমূলক নয় যে সরকার চাপের মুখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ কমিয়ে দিলেও অন্যান্য আইন, প্রবিধান বা নীতিমালায় একই রকম বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।

বর্তমান সরকারের একটি ঘোষিত লক্ষ্য ও স্লোগান হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। কিন্তু কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক আইন, প্রবিধান বা নীতিমালা চাপিয়ে দিয়ে সত্যিকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

আমরা আশা করি, সরকার এমন কোনো আইনকানুন, বিধিবিধান, নীতিমালা প্রণয়ন করবে না, যা তার ঘোষিত লক্ষ্য ও স্লোগানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন