সেই খালের মধ্যে মাছ চাষ করেন ইজারাদার। খাল দিয়ে পানিনিষ্কাশন করতে দিতেও ইচ্ছুক নন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই সেটি তিনি করতে চাইবেন না, এতে তাঁর মাছ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর জন্য মূলত দায় প্রশাসনেরই।

কেন এতগুলো মানুষের ক্ষতি করে একজনকেই লাভবান হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো। প্রশাসন যেখানে কৃষি উৎপাদনে মানুষকে উৎসাহিত করবে, কৃষকদের নানা সহযোগিতা দেবে, সেখানে উল্টো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের বক্তব্য, সরকারি খাল থাকতেও পানি সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন না তাঁরা। বিলের সাড়ে তিন শ একর জমির আমন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে গত তিন-চার বছর ফলন ভালো হয়নি।

এ বছরও অনেকে আমনের আবাদ করেননি, জমি অনাবাদি পড়ে আছে। আরও দুঃখজনক হচ্ছে, কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা। নিজেদের জমি থাকতে অনেকে জীবিকার সন্ধানে অন্যের জমির ধান কাটতে যাচ্ছেন দূর এলাকায়। কেউ কেউ পেশা পাল্টিয়ে হয়ে গেছেন ছোটখাটো দোকানদার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, জনগণের স্বার্থে খালের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দেয়াড়া বিলের পানিনিষ্কাশনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কালভার্ট সংস্কার করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইজারাদারকে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে বলেছে প্রশাসন। কিন্তু এই ইজারা কেন বাতিল করা হবে না? দেয়াড়া গ্রামের কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সেখানকার খালটি ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন দেখার অপেক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন সেখানে কী করে।