প্রয়োজনীয় দলিলপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় ওই আদালত জমত আলীর মামলা খারিজ করে দেন। তবে নালিশি জমিতে বাদীর দখল রয়েছে বলে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়। সহকারী জজ আদালতের ডিক্রিকে চ্যালেঞ্জ করে জমত আলী ২০০৪ সালে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন।

জমত আলী এ মামলার নিষ্পত্তি দেখে যেতে পারেননি। ১০ বছর আগে তিনি মারা যান। এরপর তাঁর ছেলেরা মামলার পক্ষভুক্ত হন। গত ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫৩ কার্যদিবস শুনানি হলেও এখনো এ মামলা চলমান। গত ৯ জুন জমত আলীর ছেলে নুরুল হক আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম আলোর সাংবাদিকের কাছে তাঁর ভোগান্তির কথা জানান। আর কত বছর আদালতে যেতে হবে, হতাশ নুরুল হক এ প্রশ্ন তোলেন এবং তিনি চান আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে তাঁকে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিক।

নুরুল হকের এ প্রশ্নের উত্তর যেমন আমাদের জানা নেই, তেমনি তিনি কবে ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন, সেটাও আমাদের অজানা। এর কারণ হলো আমাদের দেশের দেওয়ানি আদালতের ‘জটিল’ বিচারব্যবস্থা, বিচারকের ঘাটতি, মামলাজট ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা। বহুদিন ধরে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত এসব সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানুষ আদালতে যায় ভোগান্তির শিকার হতে নয়, ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে। তাই মামলাজট ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিচারব্যবস্থার সংস্কারসহ সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন