প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কাগজে–কলমে যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটির অবস্থান। ২০০৮ সালে যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের প্রতিটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য একজন চিকিৎসক, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি হয়।

পদগুলোর বিপরীতে নিয়োগও দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বাস্তবে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানেও দুই ইউনিয়নের জন্য দুজন চিকিৎসক দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন। কিন্তু কোনো ভবন না থাকায় তাঁরা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে পারছেন না।

এতে দুই লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁদের দৌড়াতে হচ্ছে উপজেলা শহরে।

যাদবপুরের বাসিন্দা কলেজশিক্ষক সরোয়ার আলম বলেন, ‘১৪ বছর ধরে আমাদের এলাকার মানুষের সেবার জন্য চিকিৎসক আছে, অথচ আমরা তা জানি না। প্রয়োজন হলে জমি দেব, তবু আমরা হাসপাতাল চাই।’ দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও বলছেন, কাগজে-কলমে যে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, সেটি তাঁদের জানা ছিল না। স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার ইচ্ছা পোষণও করেন তাঁরা।

এর মধ্যে যাদবপুর ও হাতীবান্ধাকে ভেঙে আরও দুটি ইউনিয়ন করা হয়েছে। উপজেলাটিতে আরও দুটি নতুন ইউনিয়ন করা হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে এখন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ‘সারা দেশেই স্থাপনাবিহীন অনেক হাসপাতাল রয়েছে। তবে সখীপুরে প্রতিটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আমরা তাঁর কথায় আস্থা রাখতে চাই। আমরা আশা করব, যাদবপুর, হাতীবান্ধাসহ বাকি চারটি ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।