প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের রঘুনাথপুরে একই জায়গায় পাশাপাশি কয়েকটি কারখানায় কয়লা উৎপাদন ও সিসা তৈরি করা হয়। দুটি কারখানায় সারিবদ্ধভাবে বানানো ১০টি চুল্লিতে মণের পর মণ কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে। সেই কয়লা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। আবার ওই কয়লা ব্যবহার করা হয় সিসা তৈরির কাজেও। পাশেই আরেকটি কারখানায় ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট গলিয়ে তৈরি করা হয় সিসা, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।

কারখানা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাঠ পুড়িয়ে প্রতিটি চুল্লি থেকে সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার টাকার কয়লা বিক্রি করা হয়। সে হিসাবে সপ্তাহে ১০ চুল্লি থেকে আয় হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। প্রতি কেজি সিসার দাম প্রায় ৩৫০ টাকা। ১ টন ব্যাটারি গলালে ৬৫০ থেকে ৬৮০ কেজি সিসা পাওয়া যায়।

পরিবেশ ধ্বংস করে বিপুল টাকার এ ব্যবসা করছেন ধামরাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম রহমান। যদিও তাঁর দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থেকে শুরু করে কারখানা পরিচালনার সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে।

আমাদের প্রশ্ন, পরিবেশ অধিদপ্তর কীভাবে এ ছাড়পত্র দিল? আবার বন বিভাগ বলছে, কারখানাগুলো অবৈধ। কারখানাটি অপসারণ করতে কিছুদিন আগে তারা ওই এলাকায় গেলেও বৃষ্টির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এ সপ্তাহেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ধামরাইয়ে এমন আরও কারখানা আছে বলে জানা যাচ্ছে। এসব কারখানার ধোঁয়ায় কয়েক বছর ধরে অনেক গাছে ফল ধরছে না। চুল্লির কারণে লোকজনও প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ এখন কী করে, সেটি দেখার অপেক্ষায়।