পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপন করতে গ্রাহককে নতুন ট্রান্সফরমারের অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আবার চুরি হলে ট্রান্সফরমারের সম্পূর্ণ মূল্য দিতে হয় গ্রাহকদের। ট্রান্সফরমার চুরি হলে মূল্য পরিশোধের পরও নতুন করে ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত লেগে যায়। এ সময়টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় গ্রাহকদের।

লোহাগাড়ার কৃষি পুরোটাই সেচনির্ভর হওয়ায় ট্রান্সফরমার চুরির কারণে ফসল চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে সেখানকার কৃষকদের। তাঁরা নিজেদের টাকা তুলে বারবার ট্রান্সফরমারের মূল্য পরিশোধ করছেন। এতে তাঁদের কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এমনকি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় এলাকা থেকেই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এক কৃষক এর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম ইব্রাহিম কবির বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসাধু কর্মচারীরা ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত। সাধারণ মানুষের পক্ষে ট্রান্সফরমার চুরি করা সম্ভব নয়।’

চুরির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তাদের দাবি, চুরি প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করেও ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া পুলিশের বক্তব্য, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যদিও চুরি হওয়া কোনো ট্রান্সফরমারই তারা উদ্ধার করতে পারেনি। কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি। আমরা মনে করি, বারবার করে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার দায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সবারই। এ নিয়ে উচ্চ মহলের মনোযোগ দাবি করছি।