চট্টগ্রাম জেলার চুনতি অভয়ারণ্যের জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। অভয়ারণ্যটিকে সুরক্ষা দেওয়া আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলো দিন দিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত-অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অবৈধ বসতি স্থাপন, মাছের ঘের ও গাছ নিধনের কারণে সেখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে।

সেখানে যে যেভাবে পারছে, পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। সম্প্রতি লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে পাহাড়ের একাংশ কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে এমন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। কঠোর শাস্তি না হওয়ায় চুনতি এলাকায় পাহাড় নিধনকারীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, লোহাগাড়া সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চুনতি অভয়ারণ্যের পাশ ঘেঁষে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে যেতে হয় তুলাতলী এলাকায়। মহাসড়ক থেকে বনের ভেতরে মেঠোপথ দিয়ে পূর্ব দিকে দুই কিলোমিটার গেলে দেখা মেলে তুলাতলী পাহাড়ের। সেখানে সবুজ ধানখেতের পাশে সেই পাহাড়ের উচ্চতা ৪০ ফুট। পলিথিন দিয়ে আড়াল করে এই পাহাড়ের একটি অংশ কাটা হচ্ছে। বাইরে থেকে কিছু বোঝা না গেলেও পলিথিনের কাছে গেলে শোনা যায় শ্রমিকদের কথাবার্তা ও মাটি কাটার শব্দ।

শ্রমিকদের পাহাড় কাটায় নিযুক্ত করেছেন বুলু বড়ুয়া নামের একজন নারী। তিনি নিজেই পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর নিজের ঘরটিও বনের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখন তিনি নিজের এক আত্মীয়ের জন্য ঘর তৈরি করতে ওই পাহাড় কাটছেন। বন ও পাহাড় সুরক্ষায় যাঁদের দায়িত্ব পালন করার কথা, তঁাদের উদাসীনতা বা অবহেলার কারণেই এমনটি ঘটছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছে।

তুলাতলী পাহাড়টি হাতি, খ্যাঁকশিয়াল, শজারু, বন্য শূকর, বনমোরগ, ময়ূর, গুইসাপ, অজগরসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র। প্রায় তিন মাইল বিস্তৃত পাহাড়টির ১০ শতাংশ এরই মধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। সংরক্ষিত বনের অনেক গাছও কাটা পড়েছে। পুরো পাহাড় রক্ষা করতে এখন স্থানীয় প্রশাসন, বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদিচ্ছা জরুরি।

চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বন বিট কর্মকর্তা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, পাহাড় কাটার খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গিয়ে বসতঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও কেউ পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ইতিমধ্যে যাঁরা পাহাড় কেটেছেন ও বন সাবাড় করেছেন, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বা হচ্ছে না। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের প্রতি এতটা নমনীয় হওয়া সন্দেহজনকই বটে। চুনতি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও তুলাতলী পাহাড় রক্ষায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হোক।