ঢাকা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস ও যানবাহন চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ না করেই এ বাইপাস সড়ক দিয়ে উত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে চলে যায়। দ্রুত ও বেপরোয়া গতির কারণেও উঁচু-নিচু সড়কটিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুঃখজনক হচ্ছে, এ সড়কে কোনো ধরনের ট্রাফিক–সংকেত নেই। প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত এক বছরে সড়কটিতে ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ সংখ্যা পঁচিশের কম নয়। পুলিশও স্বীকার করেছে, মামলা না হওয়ায় অনেকগুলো দুর্ঘটনা তাদের নথিভুক্ত হয়নি।

এ সড়কে দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটিকে। বর্ষাকালে এমনকি সামান্য বৃষ্টিতে মাটি নেমে এসে সড়কে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই সিডিএর। গত বছরে চারটি পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি এখনো সরায়নি তারা। বৃষ্টি হলেই এখন ওই চার স্থানসহ আরও নতুন পাঁচ স্থানে মাটি এসে জমা হয়। এতে সড়কটিতে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে। যার পরিণতি আমরা দেখলাম এক বাবার সন্তানহারার মধ্য দিয়ে।

ছয় কিলোমিটারের সড়কটি নির্মাণের সময় নীতিবহির্ভূতভাবে খাড়াভাবে একের পর এক পাহাড় কাটা হয়েছে। অনুমোদনের চেয়ে বেশি পাহাড় কাটায় সিডিএকে ১০ কোটি টাকা জরিমানাও করে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃষ্টি হলে সেসব খাড়া পাহাড় থেকে মাটি ধসে পড়ছে সড়কের ওপর। পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও শহরের ওপর যানবাহনের চাপ কমাতে এক বছর আগে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সড়কটি। সিডিএ জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষের পর ট্রাফিক–সংকেত ও প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। কিন্তু তাই বলে সড়কের মাটি কেন তারা সরাবে না, তা কেন মাসের পর মাস পড়ে থাকবে? সড়ক নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা আর কোনো মৃত্যু চাই না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন