কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ, সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে তরুণের প্রাণহানির ঘটনা তার বড় প্রমাণ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই পর্যটনকেন্দ্রে এসে সমুদ্রে নেমে পর্যটকদের প্রাণ হারানোর ঘটনা প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। এ ছাড়া সৈকতের নির্জন স্থানে ছিনতাইকারীদের হাতে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে বড় এই কেন্দ্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, শনিবার দুপুরের দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় ৩০০-৪০০ ফুট ওপরে ওঠার পর হঠাৎ ছিটকে পড়েন খুলনার তরুণ শৌভিক রায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদন থেকে এটা স্পষ্ট যে সমুদ্রে ছিটকে পড়ার পর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা গেলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এড়ানো যেত। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, প্রশাসনের তরফ থেকে সেখানে যেমন কোনো লাইফ গার্ড ছিল না, আবার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ছিল না কোনো উদ্ধারের ব্যবস্থা।
অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে প্যারাসেইলিং জনপ্রিয় হলেও প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এর মূল কারণ হলো, কোনো রকম নিয়মনীতি না মেনে শুধু মুনাফার কথা চিন্তা করে কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর, উদ্ধারকারী জলযান ও প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু দড়ি, প্যারাসেইল ও স্পিডবোট দিয়ে প্যারসেইলিং পরিচালনা করছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নটি থাকার পরও প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করতে পারে। জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্যারাসেইলিং বন্ধ ছিল, কিন্তু চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো এটা পরিচালনা করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে অন্তত দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। প্রশাসন যদি পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সত্যি সত্যি গুরুত্ব দিত, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনেক আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। ফলে অনুমতি দেওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতি মেনে চলছে কি না, সেটা যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি।
কক্সবাজারে একজন পর্যটক অবকাশ কাটাতে গিয়ে যদি মৃত্যুর মুখে পড়েন, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো বিষয় হতে পারে না। পর্যটনকে নিরাপদ, টেকসই ও দায়িত্বশীল শিল্পে পরিণত করতে হলে ‘দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া’র সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ‘দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে’, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।