নাগরিকদের তৎপরতাও এখানে হতাশাজনক। এর মধ্যেও নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় আমরা দারুণ এক আয়োজন দেখলাম। সেখানকার খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ উদ্যোগে গোটা ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ করছেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত শুক্রবার ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে ও বন্ধু-স্বজনদের অনুদানে বাড়িতে বাড়িতে ও সড়কে গাছ লাগানোর এ কর্মসূচি শুরু করেন। একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭১টি বাড়িতে গাছ লাগানো হবে।

প্রতিটি বাড়িতে একটি করে আম্রপালি আমের গাছ ও পরিবারের সদস্যদের পছন্দের একটি ফুলের গাছ লাগানো হবে। ইউনিয়নের ছয় কিলোমিটারব্যাপী বড়দিয়া-কালিয়া প্রধান সড়কের দুই পাশে লাগানো হবে প্রায় দুই হাজার গাছ, যাতে ভেষজ, ফলদ ও ঔষধি গাছকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

গাছ লাগানোর বিশাল এ আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা ইউপি চেয়ারম্যান বি এম বরকত উল্লাহ, যিনি নড়াইল জেলা কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের (সিপিবি) সভাপতি। তিনি জানালেন, দেশের প্রতিটি ইউপিতে রয়েছে ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেসব কমিটির সদস্য। এর একটি বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি। সেই কমিটিকেই তিনি উদ্যমী করে তোলেন।

যার ফলে এত বড় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নও শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রায় ১০০ স্বেচ্ছাসেবী প্রতিদিন এখানে কাজ করছেন। পর্যায়ক্রমে এই পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

প্রকৃতি-পরিবেশ-জীববৈচিত্র্যকে বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। গাছ না থাকলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। আমরা চাই নড়াইলের এ ইউনিয়নের মতো দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ এমন উদ্যোগ গ্রহণ করুক। প্রতিটি ইউনিয়নের এ–সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি সচল হয়ে যার যার এলাকায় সবুজে সবুজে ভরিয়ে তুলুক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন