শিয়াল, কুকুরসহ বনের পাখি ও অন্যান্য প্রাণী স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনার মধ্য থেকে খাবার খুঁজতে গিয়ে সেসব বনের ভেতরেও ছড়িয়ে দিচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে সড়কে লোকজনের চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। বর্জ্য খেয়ে বন্য পশুপাখিও মারা যাচ্ছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রাতের বিভিন্ন সময় ডাম্প ট্রাক ও সাধারণ ট্রাকে করে এসব ময়লা ফেলে দ্রুত চলে যায় অজ্ঞাত লোকজন। শ্রীপুরসহ আশপাশের কলকারখানা ও পৌরসভার বর্জ্য সেগুলো। এ অপকর্ম প্রায় এক বছর ধরে চলছে। অথচ বন বিভাগ বলছে, সবার অগোচরে সেগুলো ফেলা হচ্ছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হচ্ছে, তাদের ডাম্পিং স্টেশনের নির্মাণকাজ চলছে। তাই বাধ্য হয়েই কিছু ময়লা লোকজনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ফেলতে হচ্ছে। তবে বনের ক্ষতি করে তারা ময়লা ফেলছে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, একটি সংরক্ষিত বনে কীভাবে দিনের পর দিন ধরে বর্জ্য ফেলে সেটাকে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত করা হলো? রাতের আঁধারে, সবার অগোচরে কিংবা অজ্ঞাত লোকজন বর্জ্য ফেলে যাচ্ছেন, এমন বক্তব্য দিয়ে বন বিভাগ কিংবা শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। বনভূমিতে শিল্প, রাসায়নিক কিংবা মেডিকেল বর্জ্যের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ময়লা ফেললে শুধু পরিবেশের দূষণ হচ্ছে না, জীববৈচিত্র্যও বিনষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য থেকে প্রাণী ও মানুষের শরীরে নানা ধরনের অসুখের বিস্তার হতে পারে।

তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িত কারখানাগুলোকে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বনে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট করার এই তৎপরতা বন্ধে বন বিভাগ ও শ্রীপুর পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।