রায় প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত বলেন, যখন রিটটি করা হয়, তখন শিক্ষা ক্ষেত্রে অভিভাবকের ঘরে তথ্য হিসেবে বাবার নাম লেখা বাধ্যতামূলক ছিল। এরপর মায়ের নাম উল্লেখ করতে হতো। ফরমে অভিভাবক হিসেবে শুধু বাবার নাম উল্লেখ করা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সব ফরম পূরণে অভিভাবকের ঘরে বাবা অথবা মা অথবা আইনগত অভিভাবক শব্দ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান ফরম পূরণে বাবা অথবা মায়ের নাম উল্লেখ করার বিধান রয়েছে।

 যুগ যুগ ধরে সমাজে যে পিতৃতান্ত্রিক আধিপত্য চলে আসছে, উচ্চ আদালতের এই রায় তারও সমুচিত জবাব বলে মনে করি। এর মাধ্যমে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে বাবার অনুপস্থিতিতে যেমন মায়ের একক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, তেমনি সংবিধানে বর্ণিত নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়। 

এ রায় প্রসঙ্গে আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের সেই শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানাই, যিনি পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমিও শুনেছি, আমার বাবা কে। তারপরও আমি বাবার নামটি রেজিস্ট্রেশন ফরমে লিখতে পারিনি। কারণ, ওই লোকটি আমার মা ও আমাকে স্বীকৃতি দেননি।’ আমরা জানি না, সেই শিক্ষার্থী এখন কোথায় আছেন। পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণেই তাঁর পড়াশোনার পথ বন্ধ হয়ে যায়। রাষ্ট্রের উচিত তাঁকে খুঁজে বের করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

আশা করি, আদালতের এ রায়ের পর বাবার নাম না লেখার জন্য আর কারও পরীক্ষা বন্ধ হবে না। সমাজে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ রকম বৈষম্যমূলক বিধান থেকে থাকলে তারও অবসান হওয়া জরুরি। এ মামলায় আইনি লড়াইয়ে ব্লাস্ট, মহিলা পরিষদ, নারীপক্ষসহ যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

এ যুগান্তকারী ঘটনায় প্রথম আলো সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরেছে, সে জন্য আমরা আনন্দিত।