বন্ধ ‘গরিবের ট্রেন’ দ্রুত চালু করুন

সম্পাদকীয়

ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে একে একে সব লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়া নিছক পরিবহনসেবা সংকোচন নয়; এটি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য গুরুতর মানবিক সংকট। অল্প আয়ের মানুষের যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন ছিল এসব ট্রেন। সেগুলো বন্ধ করে তাঁদের বেশি ভাড়ার পরিবহনের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

একসময় এই পথে ছয়টি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলত। ২০২০ সালের মার্চে করোনাকালে চারটি লোকাল ট্রেন এবং ঈশা খাঁ মেইল বন্ধ হয়ে যায়। দেশের অনেক রুটে পরে ট্রেন চালু হলেও এই পথে সেগুলো আর ফেরেনি। সর্বশেষ ময়মনসিংহ মেইল, স্থানীয়ভাবে নাসিরাবাদ মেইল নামে পরিচিত, ২৪ আগস্ট সোমবার থেকে বন্ধ। ফলে এখন এই পথে মূলত আন্তনগর ট্রেনই চলছে। কিন্তু আন্তনগর ট্রেনের ভাড়া বেশি এবং সব স্টেশনে তা থামে না।

ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। লোকাল ট্রেনে ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, মেইল ট্রেনে ৫৫ টাকা। সেখানে আন্তনগর ট্রেনে লাগে ১২৭ টাকা। ছোট স্টেশনের যাত্রীরা আবার আন্তনগর ট্রেনের সুবিধাও পান না। ফলে দরিদ্র মানুষের যাতায়াত ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে যাতায়াতের সুযোগ।

নাসিরাবাদ ট্রেনটি ইব্রাহিমাবাদ থেকে ভৈরব হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৬৩১ কিলোমিটার পথ চলত। ৫০টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি ছিল। ইব্রাহিমাবাদ থেকে ভৈরব পর্যন্ত অংশে ট্রেনটি থামত ২৭টি স্টেশনে। এসব স্টেশনের সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা যুক্ত। ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এই রেলপথ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও জামালপুরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষ কাপড়, জুতা, প্রসাধনী, চাটাই, ধান, দুধ, ডিম, কলা, মুরগি, ফল ও শাকসবজি এক বাজার থেকে অন্য বাজারে নিতেন এসব ট্রেনে। ফলে ট্রেন বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা।  সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বহু মানুষ ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে কাজ করেন। নাসিরাবাদ ছিল তাঁদের বাড়ি ও কর্মস্থলের সাশ্রয়ী যোগাযোগের মাধ্যম। ট্রেন বন্ধ হওয়ায় এখন একাধিক যানবাহন বদলাতে হচ্ছে।

রেলওয়ে বলছে, লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন–সংকটের কারণে নাসিরাবাদ ট্রেনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু কবে চালু হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। এই অনিশ্চয়তা অগ্রহণযোগ্য। আমরা মনে করি, দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নাসিরাবাদ ট্রেনসহ অন্যান্য লোকাল ও মেইল ট্রেন চালু করা জরুরি।