স্বাস্থ্য বিভাগের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

সম্পাদকীয়

সরকার জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু সেটি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটি নিয়ে মাঝেমধ্যে আমাদের সন্দিহান হতেই হয়, যখন একটি হাসপাতালে এক যুগ ধরে কোনো চিকিৎসা হয় না এবং মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়।

যেখানে গেলে মানুষ নতুন জীবন পাবে, সেখানেই কিনা মাদক সেবন করে কিছু মানুষ জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আরও অবাক হতে হয়, এমন হাসপাতালের অবস্থান ঢাকার কাছেই কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে। অবাক হওয়ার পালা শেষ হয় না, কারণ হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছিলেন দুজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপরও সরকারি একটি হাসপাতালের কী নির্মম দশা।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, প্রান্তিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে ২০০৬ সালে কোন্ডার দোলেশ্বর গ্রামে একটি দ্বিতল ভবনে চালু করা হয় এ হাসপাতাল। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য নির্মাণ করা হয় আরও দুটি ভবন।

অথচ নিয়োগ করা হয়নি কোনো লোকবল। শুরুতে বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হলে একপর্যায়ে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা সরঞ্জাম, সিঁড়ির রেলিং, দরজা, জানালা ও আসবাব চুরি হয়ে যাওয়ায় নাম ছাড়া সেখানে হাসপাতালের কোনো কিছুরই আর অস্তিত্ব নেই। ভবনগুলো যেন এখন ভুতুড়ে বাড়ি। মাদকসেবীদের ‘উৎকৃষ্ট ও নিরাপদ’ আখড়া।

১০ শয্যার এ হাসপাতাল উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরবর্তী সময়ে সেটিকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ধুঁকে ধুঁকে চলতে চলতে ২০১১ সালে এসে পুরোপুরিভাবে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৮ সালে পরিদর্শন এসে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সেটি চালুর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসও পূরণ হয়নি। আমরা জানি না, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ‘অভাগা’ এই হাসপাতালের খবর জানেন কি না।

ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘২০ শয্যার হাসপাতালটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ কথা হচ্ছে, যখন এটি ১০ শয্যার ছিল, তখনো তাঁরা কী করেছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে ওই এলাকার হাজার হাজার গরিব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঘরের কাছে হাসপাতাল থাকতে চিকিৎসার জন্য লম্বা পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে। এতে করে সেই হাসপাতালকেও চাপ সইতে হচ্ছে। এখন কোন্ডা হাসপাতালের প্রাণ ফেরাতে স্বাস্থ্য বিভাগ সদয় হবে কি? আমরা আশা করছি, শিগগিরই তাদের ঘুম ভাঙবে।