মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সীমানায় মাত্র ৫০০ মিটার কাঁচা সড়ক। দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও সড়কটি ঘিরে দুর্ভোগের পরিধি অনেক বড়। দুই উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। অথচ দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি কিংবা বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রশ্ন হচ্ছে, এত মানুষের দুর্ভোগের পরও কেন সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না?
কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, এলাকার মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। এই পথে চলাচল করেন কৃষক, শিক্ষার্থী, অসুস্থ মানুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কটির বেহালের কারণে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষায় কাদার কারণে জমি থেকে ফসল পরিবহন করা যায় না। কখনো কখনো জমিতেই ফসল রেখে দিতে হয়। এতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়। অন্যদিকে চার শতাধিক শিক্ষার্থীর যাতায়াতেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, সড়কটি এখনো তাঁদের তালিকাভুক্ত নয়। নতুন করে যেসব সড়ক তালিকাভুক্ত করার জন্য ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে এই সড়কও রয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে এটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু এই বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায় না। সড়কটি তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় কত দিন পড়ে থাকবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
উন্নয়নকাজে পরিকল্পনা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু একটি সড়ক তালিকাভুক্ত নয় বলে বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ চলতে পারে না। বিশেষ করে যে সড়কের সঙ্গে হাজারো মানুষের জীবিকা, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ জড়িত, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সমস্যার সমাধান করা। সড়কটি দুই উপজেলার সীমানায় হওয়ায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই।
আমরা মনে করি, এলজিইডির উচিত কোদালিয়া-শ্রীরামপুর সড়কটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা এবং পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে মাগুরা ও ঝিনাইদহের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সড়কটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫০০ মিটার—এটি কোনো বড় প্রকল্প নয়। স্বল্প পরিসরের এই কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।