তাঁদের পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। রেলক্রসিং পাহারায় নিয়োজিত গেটম্যান সে সময় ছিলেন না। ছিল না প্রতিবন্ধক দণ্ড। সে ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ দুর্ঘটনার দায় এড়াবে কীভাবে? চার বছর আগে এই মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট রেলক্রসিংয়েও দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে দুজন মারা যান। ফলে এগুলো রেলক্রসিং না মৃত্যুফাঁদ, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও রেলওয়ে দুর্ঘটনার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দেশের ৮২ শতাংশ রেলক্রসিংই অরক্ষিত, অর্থাৎ ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন আটকানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাকি ১৮ শতাংশে পাহারাদার ও প্রতিবন্ধক—দুটিই আছে। আর রেলওয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ৮৫ শতাংশই ঘটে রেলক্রসিংয়ে। অর্থাৎ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যদি রেলক্রসিংগুলো নিরাপদ রাখতে পারত, রেল দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা কঠিন হতো না।

পৃথিবীর সব দেশেই রেলওয়েকে নিরাপদ পরিবহন ভাবা হয়। রেলওয়ের উন্নয়নে সেখানে অনেক কাজও হয়। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে রেলওয়েকে অবহেলা করা হয়েছে সড়ক পরিবহন ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিতে। রেলওয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় হওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রেলওয়ের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অব্যবস্থা। যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে।

মহিউদ্দিন রনি নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যখন রেলওয়ের দুর্নীতি ও অব্যবস্থার প্রতিবাদে আন্দোলন করছিলেন, তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটল। মহিউদ্দিন রনিকে ঢাকায় বাধা দেওয়ার পর তিনি এখন রাজশাহী রেলস্টেশনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। তাঁর আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উটপাখির মতো বালুতে মুখ লুকিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। যারা জেগে জেগে ঘুমায়, তাদের ঘুম ভাঙাবে কে?

অন্যান্য দুর্ঘটনার পর যা হয়ে থাকে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দায়িত্বে অবহেলার জন্য গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ঘটনার তদন্তে একাধিক কমিটি করা হয়েছে।

কিন্তু এ ধরনের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি সত্য বের করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা মনে করি, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি করা হোক। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন