প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০০৫ সালে চাঁদপুরের বাবুরহাট থেকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর হয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নাই এলাকা পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কটি চালুর সময় বাঁক ছিল দুই শতাধিক।

২০০৯-১৭ সাল পর্যন্ত বাঁক নিরসনসহ অন্যান্য কাজে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ৪০টি বাঁক নিরসন করা হলেও সড়কটিতে ১৭৫টি ছোট-বড় বাঁক থেকে গেছে। এসব বাঁক পার হয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে, হতাহত হচ্ছে যাত্রীরা।

মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, চাঁদপুর শহর থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলায় কম সময়ে ও সহজে যাতায়াতের একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা হচ্ছে এ সড়কপথ। সড়কে যাতায়াতকারীদের ভাষ্য, বাসে বা অটোরিকশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলতে হয়। ২০ থেকে ২৫ গজ দূরত্বে এক-দুটি করে বাঁক।

কিছু বাঁক খুবই বিপজ্জনক। এগুলো অতিক্রম করতে গেলে গাড়ি কাত হয়ে পড়ে। মনে হয় গাড়িটি এখনই উল্টে যাবে। খুবই আতঙ্ক তৈরি হয় তখন। বাঁকের কারণে সময়ের অপচয় হচ্ছে, চালকেরাও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের ভুগতে হচ্ছে।

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে চাঁদপুর সওজ বিভাগের বক্তব্য, সড়কটির বাঁক নিরসনে ইতিমধ্যে সেতু মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে বাঁক সরিয়ে রাস্তা সোজা করার কাজ আবার শুরু হবে।

অবশ্যই এটি আশাব্যঞ্জক খবর। আমরা আশা করছি, সেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে। দ্রুত বিপজ্জনক বাঁকগুলো সরিয়ে সড়কটি ঝুঁকিমুক্ত করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন