আর অপর সাতটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয় গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে। একটি মামলার অভিযোগপত্র গঠন করা হলেও রিভিশন মোকদ্দমা করার কারণে সেটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত আছে।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর যে মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য হয়েছে, সেই মামলার অন্যতম আসামি রসরাজ দাস। তিনি একজন দরিদ্র জেলে। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়। ঢাকার পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ রসরাজের ফেসবুক ও মুঠোফোনে ওই পোস্টের অস্তিত্ব পায়নি। অথচ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্থানীয় যুবক জাহাঙ্গীর আলমের মঙ্গে তাঁরও সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিযোগপত্রে।

উল্লেখ্য, রসরাজ দাস ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর ফেসবুক বার্তা দিয়েছেন—এ অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর লোকজন তাঁকে (রসরাজ দাস) আটক করে মারধর করেন এবং পরে পুলিশে হস্তান্তর করেন। এ জন্য রসরাজকে বহুদিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তাঁর নামে যে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়েছে, সেই মামলায় হাজিরা দিতে তাঁকে চট্টগ্রাম আইসিটি আদালতে যেতে হবে।

প্রশ্ন হলো, কথিত ফেসবুক পোস্টের জন্য যে রসরাজ নির্যাতন ও কারাভোগ করেছেন, তাঁর মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। অথচ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার দায়ে যে মামলা হয়েছে, সেই মামলার অভিযোগই গঠন করা হয়নি। যেখানে পিবিআইয়ের ফরেনসিক বিভাগ রসরাজের ফোন ও মুঠোফোনে ওই পোস্টের অস্তিত্ব পায়নি, সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা কীভাবে তাঁর সম্পৃক্ততা আবিষ্কার করলেন?

বাকি সাত মামলার আসামিদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সাবেক চেয়ারম্যানও রয়েছেন। তাঁরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বলেই কি মামলার অভিযোগ গঠিত হচ্ছে না? মামলার প্রাথমিক কাজ শেষ করতেই ছয় বছর চলে গেল!

ন্যায়বিচারের স্বার্থেই তদন্ত প্রতিবেদন হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ ও ত্রুটিমুক্ত। অন্যথায় নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানির শিকার ও অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনার বিচার দ্রুত শুরু হোক।