প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দৈনিক ২ হাজার ৫৬০টি আবেদন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা আছে। কিন্তু জমা পড়ে তিন হাজারের অধিক আবেদন। প্রতিদিন জমা পড়া আবেদনের মধ্যে ৮০০ থেকে ১ হাজার আবেদনে কোনো না কোনো ত্রুটি থাকে। আবেদন নিয়ে আসা ব্যক্তি ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি পাসপোর্ট অফিসে আসেন।

এত বিপুলসংখ্যক সেবাগ্রহীতাকে সেবা দেওয়ার মতো ভৌত অবকাঠামো ও জনবল নেই পাসপোর্ট অফিসের। কর্মকর্তাদের মতে, সঠিক সময়ের মধ্যে সেবা দিতে চাইলে শুধু ঢাকাতেই অন্তত আরও ১০টি কার্যালয় প্রয়োজন। আর বর্তমান যে জনবল, তাতে সুষ্ঠুভাবে দিনে ৪৫০ জনকে সেবা দেওয়া সম্ভব।

পাসপোর্ট করতে গিয়ে ভোগান্তির একটি বড় কারণ আবেদনপত্রের ভুল। ৮৫ শতাংশ আবেদনেই ভুল থাকে। সিংহভাগ আবেদনপত্র কেন ভুল হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। পাসপোর্ট যাঁরা করতে আসেন, তাঁদের বেশির ভাগই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। ফরম পূরণ করতে গিয়ে তাঁরা ভুল করে বসেন। সে ক্ষেত্রে সুরক্ষা অ্যাপের যে অভিজ্ঞতা, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবেদনের প্রক্রিয়াটা সহজ করা যায় কি না, সেটা ভেবে দেখা জরুরি।

বাংলাদেশের অন্যান্য সেবার মতো পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস নয়, ব্যাংক, জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) ও জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের কাজ রয়েছে। কোনো কারণে কোনো একটি সংস্থার সার্ভারে ঝামেলা হলে পাসপোর্ট অফিসের চলমান কাজে বিঘ্ন ঘটে।

আবার অনেক সময় পুলিশের প্রতিবেদন পেতেও দেরি হয়। পুরোনো পাসপোর্টধারীদের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রেও বায়োমেট্রিক, পুলিশি যাচাইসহ (ভেরিফিকেশন) সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। জটিল, আমলাতান্ত্রিক ও দীর্ঘ এই প্রক্রিয়া দুর্নীতির সুযোগও তৈরি করে।

প্রায় সোয়া কোটি প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কাজ করেন। এ ছাড়া পড়াশোনা, ব্যবসা, চাকরি, চিকিৎসাসূত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাতায়াত করেন। প্রবাসী ও আমদানি-রপ্তানি আয় থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। পাসপোর্ট সেবার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ভোগান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।

পাসপোর্ট পেতে নাগরিকেরা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করেই আবেদন করেন। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা যেকোনো মূল্যেই রক্ষা করা উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্যই সেটা প্রয়োজন।

দুর্ভোগ ও ভোগান্তি এড়িয়ে পাসপোর্ট সেবা গতিশীল করার জন্য ঢাকায় নতুন পাসপোর্ট অফিস করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ জরুরি। এই সেবা প্রলম্বিত হওয়ার ক্ষেত্রে যে আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা ও প্রযুক্তিগত বাধা, সেটা উতরানোর পথ খুঁজে বের করা দরকার। সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করারও বিকল্প নেই। পাসপোর্ট সেবা ঠিকমতো নাগরিকেরা যাতে পান, সে জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় দৃষ্টি দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন