পাড়ায় পাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপরও এ রকম হামলার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা বিস্ময়কর। প্রশাসনের কতজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতসংখ্যক সদস্য সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁরা হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঠেকাতে পেরেছেন কি না।

আক্রমণের অন্যতম শিকার দীপালি রানী সাহা বলেছেন, শুক্রবার সকালে পুলিশ এসে নিশ্চয়তা দিয়েছিল নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারপরও একদল লোক এসে তাঁদের বাড়ি লুট করে চলে যাওয়ার পর আরেক দল ঘরে আগুন দিয়েছে। ভয়ে তাঁরা অন্য ঘরে লুকিয়ে ছিলেন।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী আক্রমণকারীরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের মধ্যে তাঁরা ১০ থেকে ১২ জন করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছেন। এ খবর যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন এ হামলার দায় এড়াতে পারে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব, যা তারা পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইউনাইটেড কলেজেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা হয়।

আমরা কি কল্পনা করতে পারি, বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য সংখ্যালঘুদের ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু বলেছেন আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এসে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা করেছেন কিংবা বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। সে রকম ঘটনায় কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, অনুমান করা কঠিন নয়। বিষয়টি সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর নয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের জান ও মালের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার আছে। কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা আর সদলবলে কোনো ধর্মের মানুষের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া এক কথা নয়। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

যাঁরা লোহাগড়ায় সংখ্যালঘুর বাড়িঘরে হামলা ও আগুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। রামু, নাসিরনগর ও সাঁথিয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার এসব ঘটনায় কেউ শাস্তি পায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে প্ররোচিত করছে। তাই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হলে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন