নাটোরের উদাহরণ ছড়িয়ে পড়ুক দেশজুড়ে

পুঁজিতান্ত্রিক ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির প্রসারে দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি অনেকটা সংকুচিত হয়েছে বলা যায়। কিন্তু কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া এ দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়, সেটিই আমাদের মানতে হয়। যে কারণে অনেক তরুণকে আমরা এগিয়ে আসতে দেখি কৃষি খাতে। যেমনটি দেখা যাচ্ছে, নাটোর জেলা সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলায়। সেখানে সারা বছর পলিনেট হাউসে সবজি ও ফুল–ফলের চারা উৎপাদন করে বাজিমাত করে দিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক ঘটনা।

ফসলি মাঠে বিশেষ পলিথিন আর পাইপ–অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয় ‘পলিনেট হাউস’ বিশেষ এক ধরনের ঘর। এটি মূলত চারা উৎপাদনের আধুনিক পদ্ধতি। চারা উৎপাদনে বৈরী আবহাওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পলিনেট হাউসে সারা বছরই চারা উৎপাদন সম্ভব। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম হয়। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নাটোরের এসব পলিনেট হাউসে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—সারা বছরই চলে চারা উৎপাদনের মহাযজ্ঞ। নানা ধরনের সবজি চাষ আর ফুল, ফল ও সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এ ঘরে। সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার দুই গ্রাম ছাতনী দিয়াড় ও মির্জাপুর দিয়াড় গ্রামে বছর দুয়েকের মধ্যে গড়ে উঠেছে এ ধরনের চারটি বড় পলিনেট হাউস। মানসম্মত চারা উৎপাদন করে কৃষকদের আস্থা অর্জন করেছেন তাঁরা। এসব তরুণ উদ্যোক্তা স্বল্প সময়ে নিজেদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। অথচ এর আগে তাঁদের কেউ ছিলেন বেকার, কেউ ছিলেন পোশাকশ্রমিক। পলিনেট হাউসে কাজ করে অনেক নারী–পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব হাউস থেকে চারা নিয়ে বিক্রির জন্য সারি সারি দোকান গড়ে উঠেছে সেখানে। এর মধ্য দিয়ে অনেককে ব্যবসার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

এসব তরুণকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ছাতনী দিয়াড় ও মির্জাপুর দিয়াড়ের এসব তরুণ একসময় বেকার ছিলেন। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করে সফলতা পেয়েছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য তাঁদের পলিনেট হাউস তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মাঠকর্মীরা তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

আমরা কৃষি বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা আশা করব, দেশজুড়ে তরুণদের এভাবে কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তারা সম্পৃক্ত করে যাবে এবং প্রশিক্ষণ ও সহায়তাও বাড়াবে। নাটোরের সেই তরুণদের প্রতিও অভিবাদন, তাঁদের সাফল্য আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের মাধ্যমে দেশের আরও তরুণ অনুপ্রাণিত হোক, সেটিই প্রত্যাশা।