প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কুমিল্লা নগরে ১৪৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। যানজটপ্রবণ ২৭টি এলাকার মধ্যে ১২টিতে ট্রাফিক পুলিশ আছে, বাকিগুলোতে নেই। কুমিল্লার প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যন্ত যানজট সমস্যা গেড়ে বসেছে। সেখানেও অধিকাংশ জায়গায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লার ১৭ উপজেলার মিলে মোট ৬২ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশের পদের সংখ্যা মাত্র ৭৫। বলা যায়, জনবলসংকটে পুরো জেলায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। কুমিল্লার ওপর দিয়ে এক কিলোমিটারের বেশি মহাসড়ক চলে গেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত আছে শতাধিক অ্যাপ্রোচ রোড। সেখানে এত অল্পসংখ্যক লোকবল দিয়ে কোনোভাবেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বরুড়া বাজার, তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজার, লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ বাজার, মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার, লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার ও দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে তীব্র যানজট হয়। একই অবস্থা লাকসাম সড়কে, কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে, রাজগঞ্জ, চকবাজার, বাদুড়তলা, রানীর বাজার, শাসনগাছা এলাকায়ও। এর পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে অনিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, পায়ে চালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, ঠেলাগাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিশুকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। এ ছাড়া অবৈধভাবে ফুটপাত দখলের বিষয়টিও চরম আকার ধারণ করেছে নগরীতে। একজন অটোরিকশাচালকের বক্তব্য, এমন যানজট খুব কম শহরে আছে। এখানে সড়ক চিকন (সরু)। সড়কের মধ্যে ভ্যানে মালামাল বিক্রি হয়। সড়কে মানুষ হাঁটে। ফুটপাত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে। কোনো নিয়ম নেই।

অবৈধ যান চলাচল ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও সেটি যথেষ্ট নয়। কদিন যেতে না যেতেই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পুরোনো চিত্রই ফিরে আসে। আমরা চাই না ঢাকার মতো কুমিল্লাও স্থবির শহরে পরিণত হোক। আশা করি, ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত জনবল প্রেরণ করা হবে সেখানে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান করছি, অবৈধ যান চলাচল ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিন। কুমিল্লাকে দ্রুত যানজটমুক্ত করুন।