জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে এভাবে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে দৌড়াতে হচ্ছে মানুষকে। সরকারি বেশির ভাগ সেবাই এখন ডিজিটাল হয়ে গেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জন্মনিবন্ধন সনদ। মানুষকে এমন ভোগান্তিই যদি পোহাতে হয়, এই ডিজিটাল সেবার মানে কী দাঁড়াল! গাজীপুর সিটির নগর ভবনে প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। কারও জন্মনিবন্ধন নতুন করতে হবে, কারও সনদের ভুল সংশোধন করতে হবে, কারও কারও সনদ অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না।

জন্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে জন্মনিবন্ধন করা হয়। পাঁচ বছর বয়সীদের থেকে বেশি বয়স্কদের নিবন্ধন করতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নামমাত্র একটি ফি দিতে হয়। এরপরও নানা অজুহাতে অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে। গোটা কার্যক্রমকে এমন ভোগান্তির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষ বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিচ্ছেন। জন্মসনদ নিয়ে এ অসহনীয় বিড়ম্বনা গোটা গাজীপুর জেলাতেই। বলা যায়, কমবেশি গোটা দেশেরই চিত্র এটি।

তথ্য যাচাই-বাছাই না করে অসতর্ক ও দায়িত্বহীনভাবে কাজ করায় সনদে নামের বানানসহ নানা ক্ষেত্রে ভুল হচ্ছে। এতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র করাসহ বিভিন্ন সেবা ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন মানুষ।

সেটি সংশোধন করতে গিয়ে আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সার্ভারের সমস্যার কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই। তার মানে মানুষের ভোগান্তি দূর করতে কারও কিছু করার নেই?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন