সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তৎপর হোন

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল হতে নির্বাচনের আগে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ গ্রামে ফেরেন। ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষের এ উৎসাহ নির্বাচনকে উৎসবে পরিণত করে। তবে এই ঘরমুখী যাত্রার নেপথ্যে পরিবহন ও যাতায়াত খাতের যে বিশৃঙ্খলা, ভোগান্তি আমরা দেখেছি, তা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এখন ভোট শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার পালা। আমরা চাই না ফিরতি যাত্রায়ও ভোগান্তির শিকার হোক মানুষ।

নির্বাচন উপলক্ষে যাতায়াতের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সড়ক দুর্ঘটনার খবর আমাদের ব্যথিত করেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতার ফলে বেশ কিছু প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে নৈরাজ্যও ঘটেছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ অর্থ গুনতে হয়েছে। তদারকি সংস্থাগুলোর শৈথিল্য বা অনুপস্থিতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার যে চিরচেনা দৃশ্য, তা আবারও আমাদের যাতায়াতব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

ভোটের ডামাডোল শেষ হয়েছে, এখন শুরু হয়েছে ফেরার লড়াই। আগামী কয়েক দিন ঢাকাসহ বড় বড় শহর অভিমুখে মানুষের স্রোত থাকবে। এই ‘রিটার্ন ট্রিপ’ বা ফেরার যাত্রাকে সুশৃঙ্খল করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন থেকেই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রথমত, প্রতিটি মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ট্রাফিক পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকেরা যেন এই সুযোগে রাস্তায় নামতে না পারেন, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয়তা বাড়ানো জরুরি। টার্মিনালগুলোতে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় থাকতে হবে, যাতে কোনো অজুহাতেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটা না হয়। মনে রাখতে হবে, সাধারণ মানুষ তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করে ফিরে আসছে; পথে তাদের হেনস্তা হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, চালকদের সচেতনতা ও ধৈর্যও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বা ওভারটেকিং করার প্রবণতা রোধে মালিকপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের পর মানুষের এই ফিরতি যাত্রা যেন দুর্ভোগে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে সাধারণ মানুষের ফেরার পথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করবে।