এ ছাড়া নোয়াখালীর মাইজদী শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নয়টি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ গত জুনে শেষ হলেও সেখানে ওঠার আগ্রহ দেখাননি কেউ। মাইজদীতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৬৫০ বর্গফুট থেকে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে ১৪ তলা করে ৬টি ভবন তৈরি করা হয়েছে; যা খালি পড়ে আছে। এসব ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ৮৫২ কোটি, ২৯০ কোটি, ২১৯ কোটি ও ৪০২ কোটি টাকা।

এসব ভবনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার দায়িত্ব আবাসন পরিদপ্তরের। তাদের মতামতের ভিত্তিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ভবন নির্মাণ করে থাকে। কিন্তু উল্লিখিত ভবন নির্মাণের বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া কিংবা সম্ভাব্যতা যাচাই কোনোটাই হয়নি। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা খামখেয়ালিভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কথায় বলে, ‘ভাবিয়া করিয়ো কাজ, করিয়া ভাবিয়ো না।’ কিন্তু গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের করার আগে তো ভাবেইনি, করার পরও ভাবছে না। তাদের খামখেয়ালিতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হলো। একদিকে মিরপুরে নির্মিত শত শত ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে, অন্যদিকে বিসিএস প্রশাসন, পুলিশ, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পছন্দের ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন নিয়ে আবাসন পরিদপ্তরে ভিড় জমাচ্ছেন। তাঁরা মূলত মতিঝিল, ইস্কাটন ও আজিমপুর এলাকায় ফ্ল্যাট পেতে আগ্রহী।

এসব স্থানে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেতে অনেকে মন্ত্রী, সচিবদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন। অথচ যাতায়াতের সমস্যার কারণে কেউ মিরপুরে যেতে রাজি নন। সরকারি কর্মকর্তারা সেখানেই থাকতে আগ্রহী হবেন, যেখানে যাতায়াতের সুবিধা আছে। আর নারায়ণগঞ্জ ও মাইজদীর সরকারি ফ্ল্যাটে সরকারি কর্মকর্তাদের যেই ভাড়া দিতে হবে, তার চেয়ে কম ভাড়ায় তঁারা বেসরকারি আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন।

যেকোনো ভবন নির্মাণের আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিধান আছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা তারও প্রয়োজন বোধ করেননি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের খামখেয়ালি ও অপরিণামদর্শিতার কারণে সরকারের যে কোটি কোটি টাকা অপচয় হলো, তার কৈফিয়ত কী।

শত শত কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এসব ভবন খালি রাখা যাবে না। খালি ফ্ল্যাটগুলোতে শর্ত শিথিল করে হলেও নিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দ দেওয়া হোক। ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রক্রিয়ার পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হোক। যাদের জন্য এ অপচয়, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জনগণের করের অর্থ নিয়ে এ রকম অপচয় বরদাশত করা যায় না।