প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় এস এম মোজাম্মেল হক শিক্ষা কমপ্লেক্সের মাঠে গত সোমবার থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন করা হয়।

মাঠের চারদিকে পাশাপাশি একটি টেকনিক্যাল স্কুল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, একটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। সম্মেলনের কারণে সব কটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। বিশেষ করে সেখানে খোদ শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিই আরও বেশি সমালোচনা তৈরি করেছে।

তাঁদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ সম্মেলন আয়োজন করা যেত। স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে সেটি করা ঠিক হয়নি। একজন শিক্ষক বলেন, সম্মেলন শুরুর সময় বেলা তিনটা দেওয়া হলেও এর আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। তখন পাঠদানের মতো পরিবেশ পরিস্থিতি থাকে না। এমন সম্মেলনগুলোতে বিশৃঙ্খলাও হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্মেলনে উপস্থিত থাকা স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিব হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে যখন শিক্ষাবিদদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই, সেখানে শিক্ষামন্ত্রী এমন দায়িত্বহীন কাজে যুক্ত হন কীভাবে! মহামারিতে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর রাজনৈতিক দলের সম্মেলনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের পাঠবঞ্চিত করার কোনো সুযোগ আছে কি? একে ক্ষমতাসীন দলের স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কীই–বা বলা যায়!

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন